নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে দরপতন, তবুও বাজার মূলধন বাড়লো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালীন পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিনে দাম কমার প্রবণতা দেখা গেছে।
এরপরও সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে প্রথম লেনদেন হয় গত রোববার (১৫ ফেব্রয়ারি)। নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক একদিনে ২০০ পয়েন্ট বাড়ে। তবে এর পরের চার কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়।
শেষ চার কার্যদিবস টানা দরপতন হলেও, প্রথম কার্যদিবসের বড় উত্থানের কারণে সপ্তাহ শেষে মূল্যসূচক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন। এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫৩টির দাম কমেছে এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, দাম বাড়ার তালিকায় স্থান হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১০ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি টাকা বা দশমিক ১৫ শতাংশ।
বাজার মূলধন বাড়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকও বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৬৫ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১৭ শতাংশ।
এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪১১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক।
এছাড়া, লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রবি, মুন্নু ফেব্রিক্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন এবং কে অ্যান্ড কিউ।