সরকারি সুবিধা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
শিশির মনির লিখেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত এমপিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধার অংশ হিসেবে বরাদ্দকৃত ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট গ্রহণ করবেন না। জনগণের আস্থা ও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দলটি জনকল্যাণমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং জনগণের অর্থ সাশ্রয়ে সচেতন ভূমিকা রাখতে চায়। তাই এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতার একটি বার্তা।শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেন। তবে আদেশের বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোস্টে মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়গণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।”
এর আগে নির্বাচনের পূর্বে, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর সিলেট নগরের একটি কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, “আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চলবেন না।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৯টি আসনে ভোট হলেও ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে জামায়াত জোট ৭৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
শরিকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন লাভ করেছে। জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের হাত ধরে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অর্জন করেছে ২টি আসন এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন।