কড়া নিরাপত্তায় গুলশানে ভোট দিলেন তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে তিনি গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
তারেক রহমানের ভোটদানকে ঘিরে কেন্দ্রজুড়ে ছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি কেন্দ্রটিকে বিশেষভাবে সরব করে তোলে।
এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ আসন এবং তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া-৬ আসন থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। পরে ২৭ নভেম্বর তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন।
দলীয় তথ্য অনুযায়ী, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন তারেক রহমান। ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশব্যাপী প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় একটি সম্মেলনের আয়োজন করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেন, যা পরে অন্যান্য জেলাতেও অনুসরণ করা হয়।
২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (পরে সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান) পদে মনোনীত হন। ২০০৫ সালে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করেন। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান এবং দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকেন।
২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলে ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটি তাকে চেয়ারম্যান পদে অনুমোদন দেয়।