জোট নয়, এককভাবেই সরকার গড়তে চায় বিএনপি: তারেক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, বিকেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি আগামী সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজীকরণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তববাদী অবস্থান নিতে হবে। উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে বহুমাত্রিক কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ডামাডোলের মাঝে মাতৃবিয়োগের শোক—এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী যে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং মানুষ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দিতে পারবে। দেশের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো নিশ্চিত করতে কাউকে না কাউকে বিরোধী দলে থাকতে হবে। তাই সবাই মিলে সরকার গঠনের চেয়ে এককভাবে সরকার গঠন এবং শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে কেউ টিকিয়ে রাখতে পারবে না।
দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে নিয়ে বিএনপির ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও বয়স্ক—সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রাখা হয়েছে।