নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র রুখতে প্রস্তুত বিএনপি: তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যদি কোনো পক্ষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় বিএনপি সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং কোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরে তিস্তা ব্যারেজের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করা হবে।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে বলেও ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
এর আগে, দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান বলেন, মানুষ জীবন দিয়েছে, বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। তাদের এই মূল্যায়ন কখনো বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এবারে নির্বাচন শুধু দেশের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য নয়, এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠনের নির্বাচন।
তিনি বলেন, গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায়নি। একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিক অধিকার থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের যুবক তরুণের যেভাবে কর্মসংস্থান তৈরির ব্যবস্থা করার কথা ছিল, সেভাবে ব্যবস্থা হয়নি। দেশের মা-বোনদেরও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। দেশের কৃষকদের যেভাবে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সেভাবে তাদের সহায়তা করা হয়নি।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে চায় বিএনপি। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।