শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮% পছন্দ বিএনপি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮% পছন্দ বিএনপি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করতে পারেন, নতুন এক জরিপে প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করতে পারেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়। জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ। সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন । বিপরীতে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন অথবা ভোট না দেওয়ার কথা বলেছেন।

জরিপে ভোটারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে দুর্নীতি। অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতিকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বয়স ও লিঙ্গভেদ নির্বিশেষে অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা এমন নেতৃত্ব চান যিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন এবং কার্যকর ও দৃঢ়ভাবে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম। ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে সহমর্মিতা, জবাবদিহি এবং শাসনক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভোটার একটি মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করে একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য নেন। এতে প্রথাগত ও ডিজিটাল মিডিয়ার মিশ্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

জরিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, অনেক ভোটারের কাছে দল নয়, প্রার্থীই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রার্থীকে বিবেচনায় নেন। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ শুধু প্রার্থীর ভিত্তিতেই ভোট দেন, আর ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল–দুটোকেই বিবেচনায় রাখেন।

সারা দেশের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের মধ্যে স্তরভিত্তিক দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন