পিরিয়ডে যিকির, দোয়া ও দুরুদ করার নিয়মাবলী

গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন
ইসলামে পিরিয়ড বা মাসিকের সময় কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত করা নিষিদ্ধ, আবার অনেক ইবাদত এই সময়েও করা যায়। এই সময়ের জন্য মুসলিম নারীদের জন্য কিছু স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
পিরিয়ডে যে আমলগুলো করা যাবে না:
- নামাজ পড়া – একেবারে নিষিদ্ধ।
- রোজা রাখা – রাখা যাবে না, তবে পরে ক্বাযা করতে হবে।
- কুরআন তেলাওয়াত – মুখস্থ থাকলে দু’আ বা যিকিরের অংশ পড়া যাবে, কিন্তু কোরআনের কপি স্পর্শ না করাই উত্তম।
- তাওয়াফ (হজ/উমরার সময় কাবা শরীফের চারপাশে ঘোরা) – বৈধ নয়।
পিরিয়ডে যে আমলগুলো করা যাবে:
- যিকির করা – যেমন: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
- দোয়া পড়া – ঘুমের আগে বা খাবারের আগে/পরের সাধারণ দোয়া।
- দুরুদ পড়া – “দুরুদ শরীফ” এই সময়েও পড়া যাবে।
- ইসলামী জ্ঞান অর্জন – কিতাব পড়া, লেকচার শোনা, হাদীস ও তাফসীর জানা।
- তাওবা ও ইস্তিগফার – বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা যাবে।
- দোয়া চাওয়া ও আল্লাহর সাথে মন খুলে কথা বলা – কোনো বাঁধা নেই।
পিরিয়ডের সময় করা সুন্দর কিছু আমল:
- “লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ্ জালিমীন” পড়া।
- “আস্তাগফিরুল্লাহ” নিয়মিত পড়া।
- “রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ” পড়া।
ঘুমের আগে কোরআনের কিছু আয়াত পড়া যাবে কি?
- যে আয়াতগুলো পড়া যাবে: আল্লাহর জিকির, প্রশংসা ও বড়ত্ব বোঝায় এমন আয়াত। উদাহরণ: আয়াতুল কুরসি, সুরা নাস, সুরা ফালাক।
- যে আয়াতগুলো পড়া যাবে না: আল্লাহর নির্দেশ, নিষেধাজ্ঞা, পূর্ব বা ভবিষ্যতের ঘটনা বা সাধারণ তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে কোরআন পড়া। উদাহরণ: সুরা ইয়াসিন, সুরা মুলক।
সূত্র:
দারুল উলুম দেওবন্দ (ফাতওয়া: ২১২/২২৭/N=১৪৩৩), ফাতহুল কাদির (১/১৬৮), রদ্দুল মুহতার (১/১৭২), আহসানুল ফাতাওয়া (২/৭১)
দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন