বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে একমত তারেক রহমান ও আকাজাওয়া টোকিওতে হাসপাতাল, নার্সিং সেন্টার ও জাদুঘর পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের
  • খাবার নয়, অতিথিকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করানোই প্রধান অতিথেয়তা

    খাবার নয়, অতিথিকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করানোই প্রধান অতিথেয়তা
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কোনও বাড়িতে অতিথি হয়ে গেলে কারও জন্য তা আনন্দের বিষয়, আবার কারও জন্য একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা হতে পারে। সাধারণত আমরা অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি, কিন্তু সব সময়ই মনে হয় না অতিথি নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।

    বাড়িতে অতিথি আসবেন, খবর আসামাত্রই তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। কে, কী খেতে ভাল বাসেন, নতুন কী রান্না করা যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। আর রাঁধলেই তো হল না, মেনুটিও তেমনটা না হলে যে মান থাকবে না!

    তবে বন্ধুবান্ধব হোন বা মানী অতিথি— খাওয়াদাওয়ার দিকে নজরই কি সব? ‘উইথ লভ, মেগান’ ওয়েব সিরি‌জ়ের আমরেকিান অভিনেত্রী, সঞ্চালক মেগান মার্কল শিখিয়েছেন অতিথি আপ্যায়নেরও কায়দা আছে। অতিথিদের সঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্তকে স্মৃতির খাতায় আজন্ম বাঁধিয়ে রাখতে হলে, কোনটি করা ভাল, কোনটিতে অতিথি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, খেয়াল রাখা দরকার।

    ১. হাসিমুখে অভ্যর্থনা ও আন্তরিকতা
    অতিথি ঘরে প্রবেশ করার পর আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়াটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাজের ব্যস্ততা থাকলেও দরজায় গিয়ে হাসিমুখে তাঁদের স্বাগত জানান। আপনি যে তাঁদের আগমনে খুশি হয়েছেন, তা যেন আপনার কথা ও আচরণে প্রকাশ পায়। নিরুত্তাপ অভ্যর্থনা অতিথিকে শুরুতেই অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারে।

    ২. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মনোযোগ
    অতিথি যখন আপনার সাথে কথা বলছেন, তখন বারবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা টিভি দেখা থেকে বিরত থাকুন। তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনুন। নিজের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা নিয়ে তাঁদের সামনে আলোচনা করবেন না, যা তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    ৩. পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেওয়া
    খাবার মেনু ঠিক করার আগে অতিথির কোনো বিশেষ খাবারে অ্যালার্জি বা অপছন্দ আছে কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। আপনি খুব যত্ন করে কোনো পদ রান্না করলেন কিন্তু অতিথি সেটি খান না—এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। তাঁদের পছন্দের একটি ছোট পদ আপনার আন্তরিকতার পরিচয় দেয়।

    ৪. জোর করে খাওয়ানোর প্রবণতা ত্যাগ করা
    আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ হলো জোর করে খাওয়ানো। কিন্তু অনেক সময় এটি অতিথির জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন বা ডায়েটে আছেন, তাঁদের জন্য এটি বিব্রতকর। অতিথিকে অনুরোধ করুন, কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে যাবেন না।

    ৫. ছোটদের প্রতি বিশেষ যত্ন
    যদি অতিথির সাথে ছোট শিশু থাকে, তবে তাদের জন্য বাড়তি কিছু ব্যবস্থা রাখুন। শিশুদের খেলার জায়গা বা তাদের প্রিয় কোনো হালকা খাবার থাকলে বাবা-মায়েরা অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করেন এবং নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করেন না।

    ৬. বিদায় বেলায় আন্তরিকতা
    খাওয়াদাওয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কাজ বা অন্য কোনো বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না। কিছুক্ষণ সময় নিয়ে গল্প করুন। অতিথি যখন চলে যেতে চাইবেন, তখন হাসিমুখে তাঁদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিন। তাঁদের আসার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পুনরায় আসার আমন্ত্রণ জানান।

    পরিশেষে, আতিথেয়তা মানে শুধু দামী বাসন আর প্রচুর খাবার নয়; বরং অতিথিকে এটি অনুভব করানো যে, আপনার বাড়িতে তাঁর আসাটা আপনার জন্য আনন্দের এবং সম্মানের। আতিথেয়তা সম্পর্কে আরও জীবনমুখী পরামর্শ পেতে আপনি আনন্দবাজার পত্রিকা বা সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল পোর্টালগুলো অনুসরণ করতে পারেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন