কোটা থাকবে মাত্র ৫ শতাংশ, বাকি সব নিয়োগ মেধায়: তারেক রহমান

সরকারি সব ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সীমিত পরিসরে কোটা রেখে অধিকাংশ পদে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার মতে, সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে বাকি সব নিয়োগ যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি টক’-এ যোগ দিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন তিনি।
এক বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে দেশে বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। যোগ্য ও মেধাবী তরুণরা তাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তিনি মনে করেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়োগ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, কোটা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল নয়, বরং সমাজের প্রকৃতভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত আকারে কোটা রাখা যেতে পারে। তবে তা যেন কখনোই সামগ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।
তিনি দাবি করেন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ চালু হলে প্রশাসন আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা কমে আসবে এবং রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কার এনে স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে, যাতে যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য সুযোগ পায়।
তারেক রহমান বলেন, ‘একাত্তর ও চব্বিশে কে কোন ধর্মের বা জাতির, সেটা কেউই দেখেনি। ৫ শতাংশ কোটা রেখে বাকি সব মেধার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। সমতল বা পাহাড়ে সবার সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
কৃষকদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কৃষকদের নানা রকম সাবসিডি দেওয়া হয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি কার্যকর সহায়তা দেওয়া হবে। দেশে সিন্ডিকেট বলতে যেটা রয়েছে, সেখানে কিছু মানুষ অনৈতিক প্রবেশ করে অনৈতিক কাজ করছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি।’
দেশে জাহাজ তৈরি শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি বলতে যদি শুধু মাছ ধরা বোঝায়, সেটা সামুদ্রিক অর্থনীতির অংশমাত্র, এটাকেও ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে। এই অর্থনীতিকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে পারলে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।’
যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অসৎ ব্যবসায়ী অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ প্রয়োগ করে খাদ্যে ভেজাল সৃষ্টি করেন। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না, তাদের বিরুদ্ধে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। নানা বিষয়ে নানা মত থাকবে, আলোচনা হবে। কিন্তু ভেজালের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
তরুণদের পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের তরুণদের মতো মেধাবীরা যে দেশে রয়েছে, সেখানে হতাশ হওয়ার মতো কিছু নেই। আপনারা কথা বলবেন, আমরা বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাব।’