ভয় পেয়ে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে একটি দল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, দলের প্রতি ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসমর্থনে আতঙ্কিত হয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ভোটের মাঠে জনসমর্থনে টিকতে না পেরে যদি কেউ ভোটকেন্দ্র দখল, ভয় দেখানো কিংবা ভোটারদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার অপচেষ্টা চালায়, তাহলে তা কোনোভাবেই সফল হবে না। কারণ জনগণ এখন সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, প্রয়োজনে সাধারণ মানুষই ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিকে বিজয়ী করবে। জনগণের শক্তির কাছে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় এনসিপির নির্বাচনী প্রতীক শাপলা কলির পক্ষে ভোট চাইতে যান নাহিদ ইসলাম। এ সময় তিনি বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে ভাটারা থানার পাশে বাঁশতলা সড়কে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি পরিবারতন্ত্র, বৈষম্য ও দুর্নীতির রাজনীতিকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলছে। বিপরীতে ইনসাফ, সুশাসন ও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তারা ‘হ্যাঁ’ বলছে।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের সময় ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং ভোটের দিন সবাইকে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি নির্বাচনী পথসভা নিয়ে বাঁশতলা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে অগ্রসর হন তারা। পরে নাহিদ ইসলাম বনশ্রী কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে রামপুরা উত্তর ও দক্ষিণ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালান।
ঢাকা-১১ আসনটি রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। এ আসনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করেছেন এবং এলাকার মানুষ তাঁকে ভালোভাবেই চেনে। তাঁর ভাষ্য, এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, যানজট, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এবারের নির্বাচন ১৬ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পর প্রথম নির্বাচন, যা একটি নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সুযোগ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র, সাম্য ও দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নির্বাচন নয়; এটি রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।