শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট মতভেদ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, জাতীয় ঐক্যে জোর প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার দিতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান জিরো এমিশন ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী লো-ফিডে উৎপাদন অব্যাহত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের নিয়ন্ত্রণে কড়া সমালোচনা উইজডেনের অনলাইন ক্লাস না চাইলেও বাস্তবতায় বাধ্য: শিক্ষামন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত গিরিশ চন্দ্রের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর হাসনাতের সঙ্গে কী হয়েছিল বিস্তারিত জানালেন মনজুর আলম
  • জসীমউদ্দীনের বাড়িতে অবহেলা ও ঘাটতির প্রমাণ

    জসীমউদ্দীনের বাড়িতে অবহেলা ও ঘাটতির প্রমাণ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পল্লী কবির বাড়িতে লেখা নাম আর আমাদের সভ্যতার ঘাটতি। সম্প্রতি পল্লী কবি জসীমউদীনের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়। যাওয়ার আগে মনে ছিল শ্রদ্ধা, কৌতূহল এবং গর্ব—এই ভেবে যে, এমন এক কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানে দাঁড়াতে যাচ্ছি, যিনি গ্রামবাংলার জীবনকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন।

    কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ল গভীর হতাশার দৃশ্য। যা একদমই আশা করি নাই। 

    যেখানে সংরক্ষিত বহু পুরনো ছবি— যেগুলো আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য দলিল—তাদের গায়ে অসংখ্য নাম, আঁকিবুঁকি, হৃদয়চিহ্ন এমনকি মোবাইল নম্বর। কেউ আবার নিজেই কবিতা লিখেছেন ছবির ওপরে।

    কোথাও ছবি ছেঁড়া, কোথাও ফ্রেম ক্ষতিগ্রস্ত। যেন এ ঐতিহাসিক স্থানকে কেউ নিজের ব্যক্তিগত খাতার পাতা ভেবেছে। কেউ যেন ছোট বাচ্চাদের মতো ইচ্ছে মতো আঁকিবুকি করেছে।

    প্রশ্ন জাগে— এ নামগুলো লিখে তারা কী প্রমাণ করতে চেয়েছে? এ ফোন নম্বরগুলো কাকে দেওয়ার জন্য? নিজের নাম দেয়ালে লিখলেই কি কেউ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে? যাদের নাম লিখে গিয়েছেন কি কারণে লিখে গিয়েছেন? সমাজের কয়জন মানুষ তাদেরকে চেনে। প্রশ্ন জাগে তারা কি কবির থেকেও বড়?

    পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের নাম আজ শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে পরিচিত। তাঁর বাড়ি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আসেন গবেষক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও পর্যটক। সেই বাড়িতে দাঁড়িয়ে কবির স্মৃতিবিজড়িত ছবি বা স্থানে কেউ যদি নিজের নাম লিখে যায়, তবে সেটি কবিকে নয়— নিজেকেই ছোট করা।

    এটি নিছক অশিক্ষার ফল নয়। এটি দায়িত্বহীনতা, সংস্কৃতিবিমুখতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। আমরা প্রায়ই বলি, “আমরা কবিকে ভালোবাসি, সাহিত্যকে সম্মান করি।” 

    কিন্তু ভালোবাসা কি এভাবেই প্রকাশ পায়? শ্রদ্ধা কি দেয়ালে নাম লিখে জানাতে হয়? একটি জাতির সভ্যতা বোঝা যায়, সে তার স্মৃতিচিহ্নগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করে তার ওপর দিয়ে। আমরা যদি কবির বাড়িতে এমন আচরণ করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে কী শিখবে?

    আরও দুঃখজনক যে, এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর নজরদারি বা সামাজিক প্রতিরোধ নেই। নেই কঠোর নিয়ম, সচেতনতা বা লজ্জা। মনে হয় এই কাজ করে তারা মহান হয়ে গিয়েছেন।

    কবি আমাদের, তাঁর সৃষ্টি আমাদের, তাঁর বাড়িও আমাদের—সুতরাং রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদেরই। কবির বাড়িতে গিয়ে মাথা নত করা উচিত, শ্রদ্ধা নিয়ে দাঁড়ানো উচিত, ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখার মতো সংযম থাকা উচিত—দেয়ালে নিজের নাম লেখার দুঃসাহস নয়।

    আজ যদি আমরা কবির ছবির গায়ে নিজের নাম লিখে যাই, কাল হয়তো তাঁর কবিতার মূল্যও অস্বীকার করব।

    সেই পথেই শুরু হয় এক জাতির সাংস্কৃতিক পতন। এখনই সময়— নিজেদের শুধরে নেওয়ার, আচরণে সভ্যতা প্রমাণ করার, এবং কবির স্মৃতির সামনে নীরবে শ্রদ্ধা জানানো শেখার।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ