মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • উইন্ডোজ ১১ থেকেই চালান স্মার্টফোন, যেভাবে চালু করবেন ফোন লিংক পিছিয়ে গেল এইচএসসির ফল প্রকাশ, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হচ্ছেন এলিজা জামান আইজিপির বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের পর কী হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা শাড়ি বিতর্কে তিন মামলা, ‘সোলজার’ নিয়েও অনিশ্চয়তা—চাপে তানজিন তিশা পাঁচ কোম্পানির নামমাত্র নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা জ্বালানি, রেল ও অবকাঠামো খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ লিবিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
  • আবির ও ভূতপরী

    আবির ও ভূতপরী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মো. আব্দুল আলিম:

    প্রতিদিন রাত থেকে দিন। দিন থেকে রাত। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার। চতুর্দিকে মানুষের কোলাহল। মানুষের কোলাহলের মাঝেই জীবন যাত্রা। সন্ধ্যার পরেই রাত নামে। অন্ধকার রাত। প্রতিদিনই আবির বাজারে যায় আবিরের বয়স প্রায় পনের বছর। দেখতে বেশ সুন্দর। মুখে হাসি লেগেই থাকে। কিন্তু সে খুব চঞ্চল ও চালাক প্রকৃতির। বাড়ি থেকে বাজার অনেকখানি দূর। বাজার যেতে মাঝ পথে একটি জোড়া আমগাছ ও বটগাছ। বড়রা বলত ঐ গাছে নাকি ভূতপরীদের বসবাস? রাত হলেই গ্রামের মানুষ সেই পথ এড়িয়ে চলত। আবিরের বাবা সাধারণ একজন কৃষক। দিনে আনে দিনে খায়। কোনোমতে সংসার চলে। আবিরের বাবা প্রতিদিন সকালে মাঠে যায় আর সন্ধ্যা হলে বাড়ি ফেরে। প্রতিদিনের ন্যায় আবির মাদ্রাসার বাজার, এলাকার লোকিক নাম পারচৌকা মাদ্রাসার হাট। হাটটি অনেক পুরাতন। পূর্বে যাতায়াত ছিল বিভিন্ন মানুষের। জমজমাট হাটও লাগত। আর মানুষের আনাগোনা তো ছিলই।

    হাটে তরিতরকারি, মিষ্টি, জিলাপি, হাঁস, মুরগী আরও কত বিক্রি হত। তার বাবা না থাকায় আবির হাতে ব্যাগ আর একটি মুরগী নিয়ে বাড়ি থেকে বের হল হাটের উদ্দেশ্য। পরিবারে মা বাবা আর আদরের ছোট বোন হাবিবা। নিতান্ত গরীব পরিবার। বাবার প্রতিদিনের আয় রোজগারে কোনমতে সংসার চলে। বাড়িতে অতিরিক্ত অভাবের কারণে আবিরকে তার মা একটি মুরগী বেঁচতে দিল। আবির মুরগী এবং হাতে ব্যাগ নিয়ে হাটে চলতে লাগলো। আবিরের হাতে মুরগী দেখে কয়েকজন পথচারী মুরগির দাম জিজ্ঞেস করলেন। দর দামে না পোষিয়ে আবির দ্রুত হাটের দিকে যেতে লাগলো। হাটে মানুষের মোটামুটি সমাগম। হাটে পৌঁছার অনেকক্ষণ পরেই মুরগী বিক্রি হল। বিকেলে হাটে রওনা দিয়ে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। আবির মনে মনে ভাবলো মুরগী তো বিক্রি হল। এখন বাজার করতে হবে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে এলো। কোনো যানবাহন নেই। হেঁটে হেঁটে এসেছি আবার হেঁটেই বাড়ি যেতে হবে। উফ্ কী যে করি! আমতা আমতা করে আবির বাজার করতে লাগলো। তরকারি, মুড়কি জিলাপি এবং ছোট বোন হাবিবার জন্যে খেলনা কিনল। মা-বাবার পছন্দের দম মিষ্টি কিনে হাট থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য হাঁটতে লাগলো। যেহেতু হাটের দিন মানুষের চলাচল। মানুষের সঙ্গেই কিছু দূর এলো। যেতে যেতে যে যার মতো চলে গেল। আব

    আবির তো ভয়ে জড়োসরো। বুক কাঁপছে, সারা শরীর কাঁপছে। আশেপাশে কোনো মানুষ নেই। হাতে ব্যাগ নিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলনা। কয়েক পা ফেলতেই বটগাছ থেকে আবার মানুষ প্রকৃতির, পরনে সাদা কাপড় পরিহিত ভূতপরী আবিরের সামনে সরাসরি হাজির। ভূতপরী দেখে কান্নাকাটি করে দিলো। বাঁচাও! বাঁচাও বলে চিৎকার করলো কিন্তু কাউকেই কাছে পেলনা। আবিরের হাতে থাকা ব্যাগটি দেখে ভূতপরী আবিরকে বলল এই তুই এত কাঁদছিস কেন'রে। তোর ব্যাগের ভেতর কী এগুলো। আবির হাউমাউ করে বলল মিষ্টি, মুড়কি, জিলাপি মা-বাবার পছন্দের দম মিষ্টি আর ছোট বোন হাবিবার জন্যে খেলনা। আহ মিষ্টি, মুড়কি,জিলাপি আমার খুব পছন্দ' রে। তোকেও আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ভূতপরীর কথা শুনে মনে মনে বুকে ফুঁক দিয়ে আবির সাহস করে বলল, কেন আপনি এগুলো খাবার খাবেন নাকি? আবিরের কথা শুনে ভূতপরী তো মহাখুশি। আনন্দে আটখানা। ভূতপরীর ভাবসাব দেখে আবির কৌশলী বুদ্ধি আঁটল এবং ভূতপরীকে বলল যেহেতু আপনি এগুলো মিষ্টান্ন খুবই পছন্দ করেন সেহেতু আগামীকাল বাজার থেকে টাটকা মিষ্টান্ন কিনে দেবো। এ কথা শুনে ভূতপরী দাঁত কেলিয়ে হেসে আবিরকে ছেড়ে দিলো এবং আবির ভয়ভীতিহীন বাড়ি ফিরলো। 


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ