নরসিংদীতে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নেয়নি কোনো রাজনৈতিক দল

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে রাজনৈতিক দল বা নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং পরবর্তী কম্পনগুলোর উৎপত্তিস্থলও নরসিংদীতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে স্থানীয় রাজনৈতিক দল বা নেতাদেরকে দেখা না যাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
যেখানে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞ দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তৎপর, সেখানে দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে জনপ্রতিনিধিদের মানবিক সাড়ার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদী ছিল ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। এরপর শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার মৃদু কম্পন এবং সন্ধ্যায় ৬টা ৫ মিনিটে আবারও কম্পন অনুভূত হয়।
নরসিংদীতে ৫ জনের মৃত্শতাধিক মানুষ। অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, ভবন ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। লাগাতার কম্পন ও গুজবের কারণে শনিবার রাতে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বা স্কুল মাঠে রাত কাটান।
ভূমিকম্পের পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও, নরসিংদীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই মানবিক সংকটের সময়ে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা কার্যত নীরব ও অদৃশ্য। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন বা আতঙ্কিত জনগণকে সাহস যোগানোর জন্য স্থানীয় নেতাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি ছিল না। অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, ভোট বা রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নেতারা যত দ্রুত আসেন, দুর্যোগের সময় তাদের দেখা মেলে না।
রাজনৈতিক নেতাদের অনুপস্থিতির বিপরীতে জেলা প্রশাসন দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানতে ৫ সদস্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকা থেকে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল নরসিংদীতে এসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করবে বলে জানানো হয়।
নরসিংদীতে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বেশকিছু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মানবিক উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।