বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

নবাবগঞ্জে জাহিদ হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

নবাবগঞ্জে জাহিদ হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামে আলোচিত হত্যাকান্ড ১ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো মামলার বাদিরা রয়ে গেছেন ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। 

এদিকে জাহিদ হত্যা মামলায় জড়িতদের রক্ষা করতে প্রশাসনের গড়িমসি ভূমিকাকে দুষছেন এলাকার সাধারন মানুষ। 

জাহিদ হত্যা মামলাটির ১ বছরেও একটি আসামী ধরা পরেনি বরং নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসামিরা। যা দেখে  ভুক্তভোগী জাহিদের মায়ের আকুতি থামছেনা। 

এ বিষয়ে জাহিদ এর মা রাহিমা বেগম এবং এলাকার মানুষের সমন্বয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার বিকাল ৪ ঘটিকায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। 

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো। জাহিদের মা রাহিমা বেগম বলেন, জাহিদ আমার ছেলে। সে দিনমজুরের কাজ করতো। 

গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাতে আমার ছেলে ও নাফিজ বেপারী (জান্নাতকে) কৈইলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ডয়েসের ভাগিনা শাওন ফোন দিয়ে বলে আমার মামার দোকানে সিমেন্টের বস্তা আইছে নামাতে ওইবো। কাজের কথা বলে রাতে নিয়ে যায়। নিয়ে গিয়ে বলে এই বিল্ডিং এ আগুন দিতে হইবো। 

আমার ছেলে ও জান্নাত অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আমরা তো কাম কইরা খাই, এটা আমরা পাড়ুম না। "না" করাতে শাওন ও তাদের সাথে মুখোশ পড়া আরো কয়েকজন আমার ছেলেকে পেট্রোল দিয়ে সারা শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়। 

জান্নাত দৌড়ে পালায়। পাশের একটি আম বাগানে আমার ছেলে হুমরি খেয়ে পড়ে। আমার ছেলে আমার বড় ছেলেকে ফোন দেয়। পরে আবার জান্নাত সেখানে যায়। আমার বড় ছেলে ও জান্নাত মিলে আমার আগুনে পুড়ানো ছেলেকে তুলে আনে। ঢাকা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করায়। ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ আমার ছেলে জাহিদ এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়।

আমরা মূর্খ মানুষ এতকিছু বুঝি না। ওসি মমিন সাহেবের মাধ্যমে থানায় মামলা করি। তদন্তের দায়িত্ব পড়ে 10 লুৎফর সাহেবের কাছে। আমরা আশা রেখে ছিলাম পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাবো। কিন্তু গত ১ বছর হয়ে গেলো মামলার ১ম আসামী শাওনকে গ্রেফতার করতে পারলো না পুলিশ। শাওন দেশেই আছে। নিয়মিত ফেসবুকে ছবি আপলোড ও চালায়।

শাওনকে ধরলে বাকি কয়েকজন মুখোশ পড়া যারা আমার ছেলেকে পেট্রোল ধরিয়ে আগুন দিয়ে দিছে তাদের সন্ধান পাওয়া যেত। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এখানে চরম ব্যর্থতা। পুলিশ আমাদেরকে না জানিয়ে না বলে নিজেদের মতো চার্জশীট বানিয়ে দিছে। আমরা গরিব বলে প্রভাবশালী অপর পক্ষের সাথে আতাত করে বড় কিছুর আদান-প্রদানের বিনিময়ে এমন দুই নম্বর কাজ করেছে।

যে বাড়িতে আগুন দিতে বলে সেটি হাসান সাহেবের বাড়ি। ২০১৮ সালে হাসান সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করেছে আওয়ামীলীগের নেতা মালেক দেওয়ানের ছেলে কায়েত। বিয়ের পর বউকে বেশি গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মালেক দেওয়ান, তার বউ নাজমা বেগম ও ছেলে রতন ও এমদাদুলের সাথে দ্বন্দ্ব ও কোলহল শুরু হয়। এমদাদুল ও রতন তারা তখনকার যুবলীগের নেতা হওয়ায় হাসান সাহেবকে নানা ধরণের ভয়-ভীতি দেখায়। 

এমদাদুল ও রতনের সকল মাদক ও চোরা চালান ব্যবসায় ডান হাত হলো শাশুন। আমরা জানতে পারছি প্রতিশোধের বসে রতন ও এমদাদুলের সাথে থেকে শাওনের মাধ্যমে আমার ছেলেকে ও জান্নাতকে দিয়ে হাসান সাহেবের বাড়িতে আগুন লাগানোর ফাঁদ করে।

আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর মালেক দেওয়ানের স্ত্রী ও কিছু মহিলা কয়েক দফায় আমার কাছে আসে আমাকে বলে, "যেমনেই হোক তোমার এক ছেলে মারা গেছে এটার মিল মীমাংসা না হলে তোমার বড় ছেলেরও ক্ষতি হবে"। জাহিদের বাবাকে কয়েক দফায় মালেক দেওয়ান, ভয়েস ও মতু শিকদার টাকার বিনিময়ে মীমাংশা করতে বলেন।

এই মাসের ১৯ তারিখে এমদাদুল ও রতন জান্নাতকে জামিনে বের করে ওদের কিশোর গ্যাং চয়ন, রোমন, ছাত্রলীগের মুসলেম উদ্দীন পায়েল ও রাতুলকে দিয়ে আমার বাড়ির সামনে বিজয় মিছিল করে ও আমাদের দেখে নিবে এই কথা বলে হুমকি-ধামকি দেয়।

জান্নাত কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েক দফা রতন ও এমদাদুল দেখা করে ও জান্নাত ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় যদি কিছু বলে। থানার ওসি মুমিন সাহেব ও মামলার আয়ু লুৎফরের সাথে রতন ও এমদাদুল বড় কিছুর বিনিময়ে গভীর সম্পর্ক করেছে। যাতে চার্জশীট নরমাল ও মামলা ডিসমিস হয়।

আমরা আমার ছেলের জাহিদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাচ্ছি এবং মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান রইল এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার অনুরোধ রইল।
 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন