সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, একই দিনে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দর ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ মেলোনির এসপিসহ পুলিশের চার কর্মকর্তাকে বদলি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বিশ্ব শান্তি দিবস ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার কোস্টগার্ডকে উপকূলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ডমিনেজ স্টিলে আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, পাঁচ পরিচালককে ৫ কোটি টাকা জরিমানা সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনেই ১৮৮ কোটি ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স
  • জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আজ সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন।

    ফ্লাইটটি প্রায় আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের যাত্রাবিরতি শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে আবার উড্ডয়ন করবে বিমানটি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানেই অবস্থান করবেন।

    ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যস্ত কর্মসূচি

    পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের কর্মসূচি তুলে ধরেন।

    তিনি জানান, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে যে স্বাগত প্রাতরাশের আয়োজন করবেন, সেখানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি।

    সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশসভায় মতবিনিময় করবেন তিনি।

    পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা’ বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেবেন।

    এ ছাড়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

    জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন

    পররাষ্ট্রসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু বিষয়ক বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

    ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সেখানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    একই দিনে বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর একটি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক। অনুষ্ঠানে তিনি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক

    জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

    কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

    এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

    ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও গুরুত্ব

    জাতিসংঘ অধিবেশনের কর্মসূচির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের সফরে।

    সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

    ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা

    নিউইয়র্কে কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন