সরকারি হাসপাতালের বাথরুমে মিলল ওষুধ, অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বৃদ্ধি এবং অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় নানা অসঙ্গতি দেখতে পান। বিশেষ করে সরকারি ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে ভোগে, সেখানে হাসপাতালের ভেতরে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনকি হাসপাতালের বাথরুমেও সরকারি ওষুধ পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি ঘটনাস্থলেই বাগেরহাটের সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার সেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্পর্কে তিনি বলেন, হাসপাতালটিকে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।