কামাল প্রত্যর্পণ ইস্যুতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নতুন বক্তব্য

ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দিয়ে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই যে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ভারত সরকারের কাছে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধে আসাদুজ্জামান খান কামালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অন্যদিকে, একই দিনে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের কাছে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে, তবে কাকে আগে ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি এগোচ্ছে এবং ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তারা বর্তমানে ভারতে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
সোমবার (৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি : পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’- শীর্ষক সেশনে এ তথ্য জানান তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কামালকে যে প্রথমে প্রত্যর্পণ করা হবে, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। অফিসিয়াল কোনো তথ্য নেই।
এর আগে, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শুরুতেই আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করা হবে। এরপর একে একে অন্যদের।
গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা।
এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরেও শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ।