ঢাকা উন্নয়নের পথপ্রদর্শক আনিসুল হকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী

পরিচ্ছন্ন, সবুজ এবং বসবাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য যা যা করার প্রয়োজন ছিল, তাই করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক সফল মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক। তিনি তার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে ইট-পাথরের এই নগরীর বাসিন্দাদের একটি তিলোত্তমা ঢাকা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক অসাধ্য সাধন করে তিনি যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই নেমে আসে অন্ধকার। ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে (৩০ নভেম্বর) ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা’র এই স্বপ্নদ্রষ্টা ঢাকাবাসীকে অপূর্ণ রেখেই না-ফেরার দেশে চলে যান।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আনিসুল হক অল্প সময়ের মধ্যেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে নগরবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার হঠাৎ চলে যাওয়া ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে গণ্য হয়।
আনিসুল হক ২০১৫ সালের ৬ মে ডিএনসিসির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে শপথ নেন। মেয়র হিসেবে তার প্রতিশ্রুতি ছিল নগরকে স্বচ্ছ, সবুজ ও বসবাসযোগ্য করে তোলা। এর অংশ হিসেবে তিনি শহরের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক পার্কিং, বেআইনি বিলবোর্ড, ভগ্ন রাস্তা, ফুটপাত ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেন।
এছাড়া অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ, রাজধানীর ভেঙে পড়া রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা নির্মাণ, পুরোনো এবং অগোছালো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বদলে ইউ-লুপ বা ইউ-টার্ন প্রকল্প, কয়েকটি পার্ক পুনরুদ্ধার ও শহরে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন। তার নেওয়া উদ্যোগ ছিল বৃহৎ স্বপ্নের- শহরকে নতুন রূপ দেওয়া, নাগরিক জীবনের মান উন্নয়ন, পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা।
কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্বপ্নগুলো অসমাপ্ত রয়ে যায়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আক্রান্ত হন মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগে। ১৩ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় তিন মাস চিকিৎসা শেষে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র ৬৫ বছর বয়সে তার এই আকস্মিক মৃত্যু পরিবারসহ পুরো রাজধানীকে শোকাহত করেছিল।
তার মৃত্যুর ফলে শহরকে বদলে দেওয়ার যে উদ্যোগ তিনি শুরু করেছিলেন, তার বহু কাজই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তার মৃত্যুতে সাবেক এক কাউন্সিলর মন্তব্য করেছিলেন, ‘সব সৃজনশীল কাজ থেমে গেলো’
এদিকে আনিসুল হকের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে আনিসুল হক ফাউন্ডেশন।
রোববার স্বপ্নপ্রিয় এই মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তার স্মরণে বনানী কবরস্থানে আজ বাদ আসর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী সোসাইটি জামে মসজিদে বাদ মাগরিব আনুষ্ঠনিক দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না; ছিলেন উদ্যোক্তা, জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক এবং নগরবাসীর স্বপ্নদ্রষ্টা। আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে তিনি টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তিনি রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ছিলেন বিটিভির উপস্থাপক।
পরবর্তীতে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন মোহাম্মদি গ্রুপ। শুধু ব্যবসায় নয়, বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-তে নেতৃত্ব দিয়েছেন।