শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫১২ বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কা, বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে: স্পিকার পাঁচ বছরের বেশি সময় পর মা অং সান সু চির সঙ্গে কথা বললেন ছেলে হোম ডেলিভারিতে মাদক, ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি ফিরলেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকেরা আরব আমিরাতে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব চোরাই ও ক্লোন ফোন বন্ধে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর পরিকল্পনা বিটিআরসির বুকে ব্যথা নিয়ে সিসিইউতে ভর্তি মন্ত্রী মঈন খান এআই ও আধুনিক নিউজরুম কৌশলে দক্ষতা বাড়াতে খুলনায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ
  • শিশুদের সঙ্গে আচরণে ভয় নয়, আস্থা তৈরির নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

    শিশুদের সঙ্গে আচরণে ভয় নয়, আস্থা তৈরির নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে পড়েছেন। তাদের মানসিক চাপ ও ট্রমা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মানবিকভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়াতে রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মনো-সামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের পিওএম কনফারেন্স রুমে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম যৌথভাবে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

    পুলিশ সদস্যদের মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর অনেক পুলিশ সদস্য মানসিকভাবে ট্রমার শিকার হয়েছেন। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে কর্মক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    পুলিশ কমিশনার বলেন, একজন পুলিশ সদস্য নিজে মানসিকভাবে সুস্থ ও দৃঢ় থাকলে সাধারণ মানুষের পাশে আরও কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারবেন। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের আরও মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

    তিনি বলেন, বিপদগ্রস্ত বা নির্যাতনের শিকার কোনো শিশু পুলিশের কাছে এলে তাকে ভয় দেখানোর পরিবর্তে আস্থা ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুর মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হলে সে নিজের অভিজ্ঞতা সহজে তুলে ধরতে পারবে এবং প্রকৃত ঘটনা জানা সহজ হবে। তাই শিশুদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধৈর্যশীল, মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি।

    দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশ, ট্রমার প্রভাব, ভিকটিম শিশুর আচরণগত পরিবর্তন, নিরাপদ যোগাযোগ এবং মনো-সামাজিক সহায়তার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রশিক্ষণে শিশু আইন-২০১৩-এর আলোকে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ভিকটিম শিশুর মানসিক অবস্থা বোঝা, কার্যকর যোগাযোগ, কাউন্সেলিং এবং মনো-সামাজিক সহায়তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

    পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক চাপ ও ট্রমা মোকাবিলা এবং সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম।

    তিনি জানান, শিশু আইন-২০১৩ অনুযায়ী শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে থানা নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের সঙ্গে ‘সিটিজেন ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন’ ইন্টারফেস মিটিংয়ের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

    রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা, রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, মতিহার, চন্দ্রিমা ও শাহমখদুম থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের কর্মকর্তা, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ৩০ জন পুলিশ সদস্য এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পাঁচজন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

    ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন