বিদ্যুৎ সংকটেও ডিইপিজেডে উৎপাদন স্বাভাবিক

তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বাইরের এলাকাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড)। লোডশেডিংয়ের প্রভাবমুক্ত থেকে ডিইপিজেড এলাকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে দিনে গড়ে ৬ থেকে ৭ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া দফায় দফায় থমকে যাচ্ছে। তবে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করায় পুরাতন ও নতুন জোনের কোনো কারখানাতেই উৎপাদন ব্যাহত হয়নি।
ডিইপিজেডের গ্লোবাল লেবেল (বাংলাদেশ) লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান বলেন: তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও আমরা ডিইপিজেড থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেয়েছি। এর ফলে আমাদের উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই উন্নত সেবা পাওয়ার জন্য আমাদের বাড়তি কোনো বিলও গুনতে হয়নি।
ডিইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৮৬ মেগাওয়াট। বর্তমানে ডিইপিজেডের দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করছে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের প্ল্যান্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. গোলাম আরিফ দৈনিক নতুন কাগজকে জানান, গ্যাসের চাপ কমলে তারা বিশেষ 'গ্যাস বুস্টার' ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখেন। ফলে শিল্প এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটার কোনো সুযোগ থাকে না।
ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পুরাতন ও নতুন জোন মিলিয়ে প্রায় ৯০টি শিল্প কারখানা চালু রয়েছে। তিনি বলেন: "ইউনাইটেড পাওয়ার থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের মান অত্যন্ত ভালো। ভোল্টেজ ওঠা-নামা না করায় কারখানার দামি যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এবং উৎপাদনও নির্বিঘ্ন থাকছে।"
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আশুলিয়ার সাধারণ শিল্প এলাকাগুলোতেও যদি ডিইপিজেডের মতো এমন টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যেত, তবে দেশের রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হতো।