পরিবারের আগাম সতর্কতা সত্ত্বেও থামেনি হিশাম, জোড়া খুনে গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম আবুঘারবিয়েহের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হিশামের নিজের পরিবারই পুলিশকে তার অস্বাভাবিক ও সহিংস আচরণ সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেছিল বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই আহমদ আবুঘারবিয়েহ।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমদ জানান, হিশাম চরম খিটখিটে মেজাজের এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। আহমদ বলেন, "ও (হিশাম) যে রুমমেটদের সঙ্গে থাকত, তা আমি জানতাম না। ওর আচরণ এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে ওর একা থাকা উচিত ছিল, না হয় পথে থাকা উচিত ছিল।"
আদালতের নথি অনুযায়ী, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে পরিবার দুইবার তার বিরুদ্ধে 'প্রোটেক্টিভ অর্ডার' বা সুরক্ষামূলক আদেশের আবেদন করেছিল। ২০২৩ সালের আবেদনটি মঞ্জুর হলেও ২০২৫ সালের আবেদনটি আদালত খারিজ করে দেয়। বিচারকের দাবি ছিল, শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া হয়নি।
আহমদ জানান, হিশাম নিজেকে ‘ঈশ্বর’ দাবি করতেন এবং মধ্যরাতে চিৎকার করে পরিবারের সদস্যদের তার সামনে মাথা নত করতে বলতেন। একবার তুচ্ছ কারণে পুরো লিভিং রুম তছনছ করে ফেলেছিলেন তিনি। এমনকি ছোট ভাইকে মারধর ও রক্তপাত ঘটানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের দিনও হিশামকে কেবল তোয়ালে পরা অবস্থায় ভিডিও গেম খেলতে দেখা যায় এবং তিনি তার ছোট বোনকে হেনস্তার চেষ্টা করেন।
নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে আহমদ বলেন, "আমি তাদের কথা ভাবা বন্ধ করতে পারছি না। যা ঘটেছে তার জন্য আমি ও আমার পরিবার চরম লজ্জা ও অপরাধবোধে ভুগছি। আমরা বারবার পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।"
হিশাম আবুঘারবিয়েহ বর্তমানে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুটি 'ফার্স্ট ডিগ্রি' খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ জানিয়েছেন, হিশাম সমাজের জন্য এক বড় হুমকি এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিনহীনভাবে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।