ইরানের তেল বাণিজ্য অচল করার হুমকি মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রীর

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে দেশটির তেল বাণিজ্য সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকবে, যার লক্ষ্য তেহরানের প্রধান রাজস্ব আয়ের উৎসগুলোকে আঘাত করা।
গতকাল (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বেসেন্ট এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তেল উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি ট্রেজারিমন্ত্রী বেসেন্ট দাবি করেন, অবরোধের ফলে ইরানের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’-এর ডিপোগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। তখন তেল বাইরে পাঠাতে না পেরে তেহরান তাদের তেলকূপগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হবে।” এর ফলে দেশটির সমুদ্রিক বাণিজ্য ও আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
‘ইকোনমিক ফিউরি’ ও সর্বোচ্চ চাপ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ‘ইকোনমিক ফিউরি’ (Economic Fury) বা ‘অর্থনৈতিক রুদ্ররোষ’ নামক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। বেসেন্ট জানান, ইরান যাতে কোনোভাবেই দেশের বাইরে তহবিল পাঠাতে বা আটকে থাকা অর্থ দেশে ফিরিয়ে নিতে না পারে, সেজন্য পদ্ধতিগতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হবে।
সহযোগীদের প্রতি সতর্কবার্তা মার্কিন মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা দেশ যদি গোপন বাণিজ্য বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ইরানকে সহযোগিতা করে, তবে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ‘গুরুতর ঝুঁকিতে’ পড়বে। এছাড়া ইরানের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পদ বা তহবিল ফ্রিজ করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।