ঘরোয়া রাইস ওয়াটার মিস্টেই মিলবে গ্লাস স্কিন

কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং মসৃণ ত্বক বা ‘গ্লাস স্কিন’-এর প্রতি তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক এখন তুঙ্গে। দামী প্রসাধনী ব্যবহার না করেও কেবল রান্নাঘরের চাল ধোয়া পানি বা ‘রাইস ওয়াটার’ ব্যবহার করে এই আভিজাত্যময় ত্বক পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাতের মাড় বা চাল ভেজানো পানি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং কুঁচকানো ভাব দূর করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
কীভাবে তৈরি করবেন
বাড়িতেই খুব সহজে তৈরি করা যায় এই ফেসিয়াল মিস্ট। এর জন্য প্রয়োজন:
-
প্রধান উপকরণ: এক কাপ পরিষ্কার চাল ধোয়া পানি (সারারাত ভিজিয়ে রাখা)।
-
অন্যান্য: ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গোলাপ জল এবং শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন।
প্রস্তুতি প্রণালি:
আগের রাতে চাল ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরদিন সেই পানি ছেঁকে নিয়ে তার সাথে অ্যালোভেরা জেল ও প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাপ জল বা গ্লিসারিন মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি একটি স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে এর কার্যকারিতা ও সতেজতা বৃদ্ধি পায়।
উপকারিতার ভাণ্ডার
১. পোরস নিয়ন্ত্রণ: ত্বকের বড় হয়ে যাওয়া লোমকূপ বা ওপেন পোরস ছোট করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
২. অকাল বার্ধক্য রোধ: চালের পানিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ভাঁজ দূর করে এবং ত্বককে রাখে টানটান।
৩. প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার: এটি ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট করে এবং রোদে পোড়া ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়।
৪. দাগহীন উজ্জ্বলতা: নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ হালকা হয় এবং ত্বকে একটি প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল আভা তৈরি হয়।
ব্যবহারের সঠিক সময়
রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৩ থেকে ৪ বার এই মিস্ট মুখে স্প্রে করা যেতে পারে। বিশেষ করে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর বা রাতে ঘুমানোর আগে এটি ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী এই প্রাকৃতিক টোনার এখন ঘরোয়া রূপচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।