বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • ৫৫ বছর পর পুনরুদ্ধার হলো মৌলভীবাজার-৪ আসন 

    ৫৫ বছর পর পুনরুদ্ধার হলো মৌলভীবাজার-৪ আসন 
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) দুই উপজেলা নিয়ে এ আসনটি গঠিত। স্বাধীনতার পর ওই আসনটি ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি'র কোনো প্রার্থী এ আসনে জয়লাভ করতে পারতেন না! কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বিএনপি'র প্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এ জয়কে ভূমিধস ও ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখছেন দুই উপজেলার এলাকাবাসী।

    জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি'র ধানের শীষের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) পোস্টাল ভোটসহ মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী ৫০ হাজার ২০৪ ভোট পান। ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোট বেশি পেয়ে বিএনপি'র এ প্রার্থী বিজয় লাভ করেন।এটি সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিএনপি'র প্রার্থীর বিজয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে।

    এ আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক বিজয়ের নেপথ্যের রহস্য ছিল সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ভোটব্যাংক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপি'র এ প্রার্থী ও তার দলের নেতাকর্মীরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে বিজয় লাভ করতে। দীর্ঘ ২৬ বছরের বিএনপি'র এ পুরাতন প্রার্থী চা বাগান শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটাদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী হয়ে ওঠেন। ফলে ভোটব্যাংক বলে খ্যাত তাদের একচেটিয়া ভোট পান তিনি।এ ছাড়া গ্রাম-অঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও তিনি সমানভাবে জনপ্রিয়তার নিরিখে একচেটিয়া ভোট পান। হাজী মুজিবের এমন জনপ্রিয়তা একদিনে গড়ে ওঠেনি।

    ২০০১ সালে তিনি এ আসনে নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। তার শক্ত প্রতিপক্ষ ছিলেন আওয়ামী লীগের ৭ বারের এমপি সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ। এরপর থেকে শুরু হয় হাজি মুজিবের ওপর মামলা, হামলা ও নির্যাতন। ২০০৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শতাধিক মামলায় প্রায় ৪ বছর জেল খাটেন হাজি মুজিব। জেলে থাকাবস্থায় তার আপন ভাই শামীম আহমেদ কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মারা যান। ব্যবসায় নামে ধস। পুলিশি হামলায় ঈদের দিনেও বাড়িতে এসে ঈদের জামাতে শরিক হতে পারেননি। রমজান মাসে ইফতারের খাবারে কেরোসিন দিয়ে ইফতার মাহফিল পণ্ড করা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাতে পুলিশ ব্যালটবাক্স ভরে রাখার পরও সকালবেলার ১ ঘণ্টার সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি প্রায় এক লাখ ভোট পান। এসব নির্যাতনের কারণে মানুষের মনে রেখাপাত করে ও তিনি তূমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এলাকায়। দুই উপজেলায় সমানভাবে মোট ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা রয়েছে।

    এবারের নির্বাচনে ২৫০০ পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। এ আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে একজন বিএনপি'র বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) চা বাগানের মালিক ও সাবেক পৌর মেয়র (স্বতন্ত্র) মহসিন মিয়া মধু শোচনীয়ভাবে ধরাশায়ী হন এবারের নির্বাচনে। দুই উপজেলায় মোট ভোট পড়েছে বাতিলসহ ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪। শতকরা গড় হিসাবে প্রায় ৫৫ ভাগ ভোট পড়েছে। ভোটাররা জানান, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, বিএনপি'র বিশাল কর্মীবাহিনী বিরামহীনভাবে কাজ করা, বিএনপি ঘোষিত ৯টি নাগরিক সুবিধার মধ্যে কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপক প্রচার_এসব কারণে তারা এবার ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেন। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন কর্মী বাহিনী একেকটি ঘর,পাড়া মহল্লায় এজন্য এ বিজয় সর্বোচ্চ রেকর্ড সমূহ বিজয় নিয়ে আসে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন