অদক্ষ চালকে বিপর্যস্ত লক্ষ্মীপুর শহরের পরিবহন ব্যবস্থা

লক্ষ্মীপুর শহরসহ আশপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে হাজার হাজার নিবন্ধনবিহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। এসব যানবাহনের অধিকাংশ চালকই অপ্রশিক্ষিত ও অদক্ষ। ফলে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা, ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
শহরের প্রধান সড়কগুলো — রায়পুর রোড, মাদাম রোড, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, চকবাজার ও সদর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধিপত্য দেখা যায়। অনেক সময় রাস্তার পাশে যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা বা আড্ডা দেয়ার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের বেশিরভাগই কিশোর বা অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের কারওই চালানোর লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণও নেই। ফলে সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। অনেকে উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে নিজের ও অন্যের জীবনের।
গত এক মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ডজনখানেক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বহু মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ— এসব যানবাহনের চালকরা ট্রাফিক আইন মানে না, সিগন্যাল উপেক্ষা করে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।
শহরের সচেতন মহল বলছে, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পৌর প্রশাসনের সমন্বয়ের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। নির্দিষ্ট নিয়ম বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই রাস্তায় চলছে হাজারো ব্যাটারিচালিত রিকশা। এতে সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ খাতের শৃঙ্খলা আনতে হলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধ চালক হিসেবে নিবন্ধন দিতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে হবে।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জনৈক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অবৈধ যানবাহন চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে চালক ও মালিকদের সহযোগিতা ছাড়া এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার বেপরোয়া চলাচল শুধু যানজট নয়, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ নিলেই শহরের পরিবহন ব্যবস্থা আবারও শৃঙ্খলায় ফিরবে।