প্রতারণা রোধে চাঁদপুরে অনলাইন ইলিশ ব্যবসায়ী ৭ জন নিবন্ধিত

ইলিশের বাড়ি' হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের রূপালী ইলিশের সুনাম এবার সুরক্ষিত হলো কঠোর প্রশাসনিক নজরদারিতে। অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। প্রথমবারের মতো যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জেলার ৭ জন অনলাইন ইলিশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলো বৈধতার নিবন্ধন সনদ।
ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর, এই নামেই দেশ-বিদেশে পরিচিত এই জেলা। দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে অরিজিনাল চাঁদপুরের ইলিশের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু চক্র চাঁদপুরের নাম ভাঙিয়ে অনলাইনে নিম্নমানের ইলিশ বা অন্য এলাকার মাছ বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। অনেক ক্রেতা আগাম টাকা দিয়েও সঠিক পণ্য না পাওয়ায় জেলা প্রশাসনকে অভিযোগ করেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন অনলাইন ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের জন্য আবেদন গ্রহণ করে। মোট ৪৪টি আবেদন জমা পড়লেও, দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ৭টি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সাত ব্যবসায়ীর হাতে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন সনদ তুলেদেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
তিনি বক্তব্যে বলেন, কাগজপত্র সঠিক পাওয়ার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে সাতজনকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ ধরণের নিবন্ধন আমরা প্রতিবছর দিব। নিবন্ধনের জন্য কোন টাকা নেওয়া হয়নি। পরে ১ থেকে ২ বছরের জন্য নবায়নের জন্য পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। আবার নতুন করে নিবন্ধন দিলে তখনও টাকা নেওয়া হবে না। আবার এর মধ্যে কেউ যদি তার ব্যবসা বন্ধ রাখেন, তার নিবন্ধন বাদ করে দেওয়া হবে। মূলত হচ্ছে ইলিশ নিয়ে চাঁদপুরের যে ঐতিহ্য সেটি সমুন্নত রাখতে চাই। যেন কেউ চাঁদপুরের ইলিশ বলে প্রতারণা করতে না পারে। এ বিষয়টি প্রতিহত করতে চাই।
ডিসি আরও বলেন, নিবন্ধন হওয়া ব্যবসায়ীদের তালিকা জেলা প্রশাসকের ওয়েব সাইটে দেওয়া হবে। এতে করে বাকি যারা আছে তারাও নিবন্ধিত হওয়ার জন্য আগ্রহী হবেন। আর যারা বাহিরে থেকে প্রতারণা করছেন তারা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবেন। আমরা এই বিষয়টি প্রচারণা করবো।
তিনি নিবন্ধন পাওয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হাতিয়ার ইলিশ চাঁদপুরের বলে বিক্রি করবেন না। কারণ হাতিয়ার ইলিশ দাম কিছুটা কম। কোন ক্রেতা যেন প্রতারিত না হয়। একই সাথে চাঁদপুরের ইলিশের ঐতিহ্য ও সুনাম যেন অক্ষুন্ন থাকে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: (ফেসবুক পেজের নাম) ইলিশ ভাইয়া চাঁদপুর, মাছ পল্লী, একিন সপ, তাজা ইলিশ.কম, ইলিশ রানী, রুপালী বাজার, সজিব ইলিশের বাজার চাঁদপুর।