বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা ২০২৫: রায়পুরের সালেহা বেগমের অনন্য অবদান

গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা ২০২৫: রায়পুরের সালেহা বেগমের অনন্য অবদান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো “গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা-২০২৫”। 

রবিবার ( ৫ অক্টোবর) রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে “গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা-২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও অতিথিবৃন্দ।

“শিক্ষকতাকে একটি সহযোগী পেশা হিসেবে পুনর্গঠন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে “গুণী শিক্ষক” হিসেবে সংবর্ধিত হয়েছেন রায়পুর এল. এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালেহা বেগম।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সালেহা বেগম বলেন,“শিক্ষকতা আমার ভালোবাসা, অঙ্গীকার ও আত্মার তৃপ্তি”। আজকের এই দিনটি কেবল আমার নয় এটি প্রতিটি নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের দিন, যারা নীরবে-নিভৃতে তাদের সময়, শ্রম ও হৃদয়ের ভালোবাসা বিলিয়ে দিচ্ছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।” তিনি  শিক্ষকতাকে পেশা নয়, বরং ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের স্থান হিসেবে দেখেন। 

২০২৩ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতোমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছেন।

প্রযুক্তিতে শিক্ষার নবদিগন্তঃ কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও তিনি থেমে থাকেননি। “ঘরে বসে শিখি” উদ্যোগের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নিয়েছেন, প্রায় ৩২টি ফেসবুক পেইজে নিয়মিত পাঠদান করেছেন। পরবর্তীতে সংসদ টেলিভিশনেও ক্লাস নিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই শিক্ষার আনন্দ পেতে পারে।

শিক্ষা প্রযুক্তিতে তার অনন্য দক্ষতার কারণে তিনি হয়েছেন আইসিটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাম্বাসেডর, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা, সেরা অনলাইন পারফর্মার এবং ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষক।

সালেহা বেগম বলেন “শিক্ষা তখনই অর্থবহ, যখন তা শিশুর মন ছুঁয়ে যায়। প্রযুক্তি সেই শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলেছে।”

“শিক্ষক শুধু পেশাজীবী নন, তিনি জাতি গঠনের কারিগর। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসক — সবাই একদিন কোনো শিক্ষকের হাতেই তৈরি হয়।”

তিনি কৃতজ্ঞতা জানান উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি, যারা শিক্ষকদের কাজকে মূল্যায়ন করছেন এবং অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন।

শেষে তিনি তার প্রিয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,“তোমাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছাড়া আজকের এই অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। তোমরাই আমার অনুপ্রেরণা, তোমরাই আমার শক্তি।”

সালেহা বেগম আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও যেন তিনি শিশুদের নিয়ে কাজ করতে পারেন, তাদের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী হতে পারেন।

রায়পুরের এই গুণী শিক্ষিকা শুধুমাত্র পাঠদানে নয়, বরং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তার নিবেদন, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন