চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ‘দখল’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানালো অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি

সাম্প্রতিক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য উপদেষ্টা ২৮ সেপ্টেম্বর প্রেস ক্লাবকে ‘দখল করা’ সংক্রান্ত যে মন্তব্য করেছেন, তা দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য অনভিপ্রেত এবং এটি চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ ও ছাত্র জনতার আন্দোলনের প্রতি অবমাননা স্বরূপ।
অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নেতৃবৃন্দের দাবি, প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা প্রেস ক্লাবকে 'ভারতীয় দালাল ও ফ্যাসিবাদের দোসর মুক্ত' করে। পরবর্তীতে তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টার নির্দেশে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তদন্ত শেষে ছাত্র জনতার আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পুরনো কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেলেও তারা প্রতারণামূলকভাবে আদালতের শরণাপন্ন হয়।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদান, বিতর্কিত ছবি ও কর্নার অপসারণ, বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে 'জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল' করা, এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের স্বীকৃতি প্রদানসহ বেশ কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম প্রেস ক্লাবে জুয়া খেলার অভিযোগ তুললেও সেটিকে 'আপত্তিকর' দাবি করে কমিটি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবেও অনুমোদিত হাউজির জন্য হল ভাড়া দেওয়া হয়ে আসছে। এর আয় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও সদস্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীতে প্রেস ক্লাবকে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় প্রভাবাধীন একটি স্বার্থান্বেষী মহল কব্জা করে এর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। জুলাই আন্দোলনের সময় যারা শিক্ষার্থীদের দমন করতে সহায়তা করেছে এবং নারী সাংবাদিকদের অপদস্ত করেছে, তাদের এখনো আইনের আওতায় না আনা সরকারের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাচনের আগে ফ্যাসিবাদের দোসর সাংবাদিকদের কোনও স্থান হবে না।