রাজশাহীতে সার সংকট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি

রাজশাহী জেলাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সার সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট দ্বারা প্রভাবিত করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন মোহনপর বাগমারা গোদাগাড়ী পবা সহ তানোর উপজেলার কৃষি বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সার ব্যবসায়ী রা দলীয় সিন্ডিকেট করে এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত মূল্য থেকে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অতিরিক্ত দাম নিলেও দেওয়া হচ্ছে না কোনো রসিদ। রসিদ দিলেও সেখানে সরকার নির্ধারিত দাম লেখা হচ্ছে না। কেউ এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে চাহিদামতো সারও দেওয়া হচ্ছে না। একারণে সাধারন কৃষকেরা এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কেউ সাহসও পাচ্ছে না।
পাচারকারীরা এক জেলা থেকে অন্য জেলা নিয়মিত সার পাচার করছে। চোরাপথে প্রকাশ্যে প্রতিদিন ট্রলিতে করে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে এ সিন্ডিকেট চক্ররা।
কামারগাঁ বাজারে নিম্নমাণের পটাশ ও টিএসপি সার এনে দ্বিগুন মূল্যে বিক্রয় করছেন বলে ওই সব এলাকার কৃষকেরা এ তথ্য দেন। এছাড়াও সরনজাই বাজার, মাদারিপুর বাজার, কেশরহাট বাজার, চৌবাড়িয়া বাজার, গোল্লাপাড়া বাজারে দিগুন মূল্যে বিক্রয় করছে কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ীরা।
বিভিন্ন উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোলাবাজারে এমওপি সার এক হাজার টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০, টিএসপি এক হাজার ৩৫০ টাকা সরকার নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিলাররা সংকট দেখিয়ে দ্বিগুণ মূল্যে সব ধরনের সার বিক্রয় করছেন। সার বিপণন নীতিমালা অনুয়ায়ী এক এলাকার সার অন্য এলাকায় বিক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই।
খোজ নিয়েে জানা গেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে তানোরে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা প্রায় গত বছরের সমান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই সপ্তার ব্যবধানে তানোরে এমওপি (পটাশ) ও টিএসপি সার দ্বিগুণ দামে বিক্রয় করছেন বিএডিসি ও বিসিআইসি ডিলাররা। তবে, এ ব্যাপারে বিসিআইসি ডিলাররা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আমদানিকারক নোয়াপাড়ার ফায়েজ ট্রেডিং কর্তৃপক্ষের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারিভাবে এবার টিএসপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ কমিয়ে ডিএপি সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতে সারের সংকট হওয়ার কথা নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করলে তা জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।