মারা গেছেন অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রবীণ ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ৭৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পর নানা পাটেকরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নানা পাটেকর ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘নাটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তাক ছাপ্পান’ ও ‘যশবন্ত’সহ বহু আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
২০০০-এর দশকে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তাক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) ও ‘ট্যাক্সি নং–৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন নানা পাটেকর। ২০০৭ সালের কমেডি সিনেমা ‘ওয়েলকাম’-এ গ্যাংস্টার উদয় শেট্টির চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। পরে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫) সিনেমাতেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন।
‘রাজনীতি’ (২০১০) সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পান তিনি। ২০১৬ সালে মারাঠি সিনেমা ‘নাটসম্রাট’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জেতেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। ‘যশবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) ও ‘আঞ্চ’ (২০০৩) সিনেমায় নেপথ্য গায়ক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। ‘হাউসফুল ৫’-এও পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।
নানা পাটেকরের ঝুলিতে রয়েছে তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুটি মহারাষ্ট্র রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস মারাঠি। চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।
মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জাঞ্জিরায় একটি মারাঠি পরিবারে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকর ১৯৮৮ সালে ‘সালাম বোম্বে!’ সিনেমায় অভিনয় করেন। একই বছর তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মিতে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। নিজের প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিন বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এ সময় তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ভি কে সিংয়ের সঙ্গে কাজ করেন।
সিনেমার বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গেও নানা পাটেকরের সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় তিনি মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৩ সালে টেরিটোরিয়াল আর্মি থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে অবসর নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নানা পাটেকরের মৃত্যুর এই খবরটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।