সাভারে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রোববার রাতে সাভার ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), সাব্বির আহমেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)। রোববার রাতে সাভার, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রোববার সকালে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে সাভার থানা-পুলিশ।
মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ সোমবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যে ব্যক্তিগত গাড়িকে কেন্দ্র করে, সেটি গতকাল রোববার রাতে সাভার পৌর এলাকার উত্তরপাড়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটির মালিক মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আমিনবাজার এলাকায় একটি অটো গ্যারেজের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যারেজ মালিককে থাপ্পড় মারেন।
গ্যারেজ মালিককে থাপ্পড় মারার প্রতিবাদ করায় আলতাব হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাণভয়ে তিনি তাঁদের একটি কারখানায় আশ্রয় নেন। পরে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই কারখানায় গিয়ে আলতাব হোসেন ও তাঁর ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাব হোসেনকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিগত গাড়িটি ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল আলম।