রাজধানীতে শুরু ঠোঁট-তালুকাটা রোগীদের ফ্রি অপারেশন ক্যাম্প

ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যের বিশেষ অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ‘নতুন হাসির অঙ্গীকারে’ শীর্ষক এ মানবিক উদ্যোগে প্রায় ১৭০ জন রোগীর অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) শুরু হওয়া এই বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের আয়োজনে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে স্মাইল এশিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সাজেদা ফাউন্ডেশন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে, যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে এবং উচ্চতর হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ হ্রাস পায়।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান উন্নয়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিক রেফারেল সিস্টেম এবং ই-হেলথ কার্ড ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক বলেন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ধাপে ধাপে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে নতুন ভবন নির্মাণ এবং ভবিষ্যতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি হাসপাতালে আরও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ নবজাতকের মধ্যে একজন ঠোঁট বা তালুকাটা সমস্যায় জন্ম নেয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার শিশু এ ধরনের জন্মগত সমস্যার মুখোমুখি হয়।
তিনি বলেন, একটি সফল অস্ত্রোপচার শুধু শারীরিক পরিবর্তন নয়, একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা ও সামাজিক জীবনের নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দেয়। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন রাষ্ট্র তার অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের পাশে দাঁড়ায়।
উপদেষ্টা আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
এবারের চিকিৎসা মিশনে ৮টি দেশের প্রায় ৩০ জন বিশেষজ্ঞ সার্জন, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট, থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের একই ধরনের মিশনে ৭৬টি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল।