শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরাজ-তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এগিয়ে বাংলাদেশ উড্ডয়নের আগে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৮৬ জন তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের আগে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেবপুরে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিডিএলজি সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৩১৫ কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ
  • কোমা বনাম ব্রেইন ডেথ: চিকিৎসা বিজ্ঞানে জীবন ও মৃত্যুর সূক্ষ্ম রেখা

    কোমা বনাম ব্রেইন ডেথ: চিকিৎসা বিজ্ঞানে জীবন ও মৃত্যুর সূক্ষ্ম রেখা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে সবচেয়ে জটিল এবং আবেগঘন অবস্থার দুটি নাম ‘কোমা’ ও ‘ব্রেইন ডেথ’। সাধারণ মানুষের কাছে এই দুটি অবস্থাকে একই মনে হলেও, চিকিৎসকদের মতে এদের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একটি গভীর অচেতন অবস্থা হলেও প্রাণের স্পন্দন বাকি থাকে, অন্যটি হলো ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এক নিথর বাস্তবতা। এই দুই অবস্থার পার্থক্য জানা কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং রোগীর পরিবারের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।

    কোমা: ফিরে আসার ক্ষীণ আশা যেখানে বেঁচে থাকে

    কোমা হলো মস্তিষ্কের এমন একটি গভীর অচেতন অবস্থা যেখানে ব্যক্তি জাগ্রত হতে পারে না বা বাইরের কোনো উদ্দীপনায় সাড়া দেয় না। তবে এই অবস্থায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। রোগীর মস্তিষ্ক আংশিকভাবে সচল থাকে, ফলে হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাস কৃত্রিম যন্ত্র ছাড়াই চালু থাকতে পারে। কোমা থেকে রোগী কয়েক দিন, মাস বা বছর পর চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার নজির রয়েছে। এটি মূলত একটি ‘অস্থায়ী’ বা ‘পরিবর্তনযোগ্য’ (Reversible) অবস্থা হতে পারে।

    ব্রেইন ডেথ: যেখানে জীবন থমকে দাঁড়ায়

    অন্যদিকে, ব্রেইন ডেথ বা মস্তিষ্ক মৃত্যু হলো মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ ও স্থায়ী কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এই অবস্থায় মস্তিষ্ক আর কোনো সিগন্যাল দিতে পারে না—না চিন্তা, না রিফ্লেক্স, এমনকি নিজে থেকে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাও হারায় শরীর। যদিও ভেন্টিলেটর বা লাইফ সাপোর্টের মাধ্যমে হার্টবিট বা অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখা যায়, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এবং আইনগতভাবে ব্রেইন ডেথ মানেই হলো ‘ক্লিনিক্যাল ডেথ’ বা মৃত্যু। এই অবস্থা থেকে কোনোভাবেই ফিরে আসা সম্ভব নয় (Irreversible)।

    মূল পার্থক্য যেখানে

    চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো সম্ভাবনায়। কোমা আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্ক মেরামত হওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু ব্রেইন ডেথের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করার পর লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে রোগীর হৃদপিণ্ড দ্রুতই বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এই অবস্থায় অঙ্গদানের (Organ Donation) মতো মহৎ কাজগুলো করার সুযোগ থাকে, যা অন্য কারো জীবন বাঁচাতে পারে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন