বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • বাংলা সনের মাসগুলোর নামের পেছনের গল্প

    বাংলা সনের মাসগুলোর নামের পেছনের গল্প
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বৈশাখের খরতাপ, আষাঢ়ের বৃষ্টি, অগ্রহায়ণের নবান্ন—বাংলা বারো মাস শুধু সময়ের হিসাব নয়, বরং বাঙালির জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঋতুচক্রের গভীর অংশ। বছরজুড়ে উৎসব, কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কথায় ঘুরে ফিরে আসে এই মাসগুলোর নাম।

    তবে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, ফাল্গুন বা চৈত্র—এই পরিচিত নামগুলোর উৎপত্তি কোথা থেকে এসেছে, তা অনেকেরই অজানা। এগুলো কি শুধুই বাংলা শব্দ, নাকি এর পেছনে রয়েছে প্রাচীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হয় বহু শতাব্দী পেছনে।

    প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় সময় নির্ধারণের অন্যতম ভিত্তি ছিল নক্ষত্রমণ্ডল। আকাশকে ২৭টি নক্ষত্রে ভাগ করে চাঁদের অবস্থান পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সময় গণনা করা হতো। চাঁদ কোন নক্ষত্রের কাছাকাছি রয়েছে তার ভিত্তিতেই মাসের নাম নির্ধারণ করা হতো।

    এই পদ্ধতিতে বৈশাখ নাম এসেছে বিশাখা নক্ষত্র থেকে, জ্যৈষ্ঠ এসেছে জ্যেষ্ঠা নক্ষত্র থেকে, আষাঢ় এসেছে আষাঢ়া নক্ষত্র থেকে, শ্রাবণ এসেছে শ্রবণা নক্ষত্র থেকে, ভাদ্র এসেছে ভাদ্রপদ নক্ষত্র থেকে, আশ্বিন এসেছে অশ্বিনী নক্ষত্র থেকে, কার্তিক এসেছে কৃত্তিকা নক্ষত্র থেকে, অগ্রহায়ণ এসেছে অগ্রযণ বা মার্গশীর্ষ নক্ষত্র থেকে, পৌষ এসেছে পুষ্য নক্ষত্র থেকে, মাঘ এসেছে মঘা নক্ষত্র থেকে, ফাল্গুন এসেছে ফাল্গুনী নক্ষত্র থেকে এবং চৈত্র এসেছে চিত্রা নক্ষত্র থেকে।

    বাংলা সনের ব্যবহার শুধু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বা ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না। মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সুবিধার্থে বাংলা সনকে আরও ব্যবহারিকভাবে সাজানো হয়। খাজনা আদায় ও ফসল তোলার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পঞ্জিকাকে পুনর্গঠন করা হয়।

    বাংলা মাসগুলোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো আকাশের নক্ষত্র থেকে শুরু হয়ে মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। বৈশাখ মানে নতুন বছরের সূচনা ও খরার সময়, আষাঢ় মানে বর্ষার আগমন, ভাদ্র-আশ্বিনে ধান পাকার সময়, অগ্রহায়ণে নবান্ন উৎসব, আর ফাল্গুন-চৈত্রে ঋতু পরিবর্তনের রঙিন আবহ।

    ফলে বাংলা বারো মাস কেবল ক্যালেন্ডারের অংশ নয়; এটি হাজার বছরের জ্ঞান, সংস্কৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং কৃষিভিত্তিক সমাজের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি মাসের নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন