সুরের জগতের নক্ষত্র আশা ভোঁসলে আর নেই

ভারতীয় সঙ্গীতাকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই সুরসম্রাজ্ঞী। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীত জগতের সাত দশকের এক দীর্ঘ ও বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল অনুরাগীদের মনে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সকল প্রার্থনা বিফল করে বিদায় নিলেন তিনি।
অসুস্থতা ও শেষ মুহূর্ত
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যাবেলা আচমকাই শরীরে অস্বস্তি অনুভব করেন শিল্পী। নিজের সমস্যার কথা এক গৃহকর্মীকে জানিয়েছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি হৃদ্ রোগে আক্রান্ত হন বলে প্রাথমিক খবরে জানা যায়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল থেকে শিল্পীর নাতনি জ়নাই ভোসলে সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছিলেন, "ঠাকুরমা খুবই ক্লান্ত এবং তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে।" তিনি সকলের কাছে পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধও করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরনিদ্রার দেশে পাড়ি দিলেন আশা ভোসলে।
এক বর্ণিল কর্মজীবন
আশা ভোসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার থেকে শুরু করে ২০০৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’—অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে প্রথম ভারতীয় গায়িকা হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন তিনি।
হিন্দি, বাংলাসহ ভারতের প্রায় প্রতিটি প্রধান ভাষায় তিনি হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’ কিংবা ‘তুমসে মিলকে’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তাঁর গায়কীর বৈচিত্র্য এবং কণ্ঠের যাদু চিরকাল সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে।
শোকের ছায়া সঙ্গীত মহলে
আশা ভোসলের প্রয়াণে ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের পর তাঁর প্রয়াণকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন গুণীজনেরা। শোকবার্তায় বহু প্রবীণ ও নবীন শিল্পী জানিয়েছেন, আশা ভোসলে ছিলেন একাধারে অভিভাবক ও অনুপ্রেরণা। এক যুগের অবসান ঘটলেও তাঁর রেখে যাওয়া সুরের উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।
দৈএনকে/জে, আ