কড়াইল বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন

রাজধানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এরপর দেশের ১৪টি স্থানে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেওয়া হবে। এটি সরকারি একটি তথ্য বিবরণীতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মূলত বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”—এই দর্শনকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশে ২৩টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সমন্বয়হীনতা, ডাবল-ডিপিং এবং দরিদ্রদের বাদ পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এসব ত্রুটি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপকারভোগী নির্বাচন পদ্ধতি
উপকারভোগীদের নির্বাচন হবে প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT) স্কোরিং পদ্ধতিতে। ০ থেকে ১০০০ স্কোরের ভিত্তিতে ১ম (০–৭৭৭) ও ২য় (৭৭৮–৭৯৬) কোয়ান্টাইলভুক্ত অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার পাইলট পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গ্রামের বসতভিটাসহ আবাদি জমি সর্বোচ্চ ০.৫০ একর হতে হবে। সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী সদস্য, বড় ব্যবসা বা বিলাসবহুল সম্পদধারী পরিবার অযোগ্য বিবেচিত হবে। ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর পরিবার যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অগ্রাধিকার পাবে।
নারীর ক্ষমায়ন ও নগদ সহায়তা
ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। একই কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য ভাতাও এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
পাইলট বাস্তবায়ন এলাকা
দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচিত হয়েছে—ঢাকার বনানী (কড়াইল বস্তি), রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ। এই এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বিবেচনায়।
বাজেট ও ব্যবস্থাপনা
মোট বাজেট ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকা, যার ৭৭ শতাংশ অর্থ (১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) সরাসরি দরিদ্র ৬,৫০০ পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ ব্যবহার হবে তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রি, কমিটির সম্মানী, স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং ও উদ্বোধনী ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের দরিদ্র ও অনগ্রসর পরিবারকে একটি সমন্বিত, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসবে। এতে দারিদ্র্য হ্রাস, নারী ক্ষমায়ন এবং সরকারের সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।