শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম

রাজশাহীর রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক মাহফুজুর রহমান রিটন

রাজশাহীর রাজনীতিতে আস্থার প্রতীক মাহফুজুর রহমান রিটন
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

​রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাহসিকতা ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বর্তমানে আলোচিত নাম মাহফুজুর রহমান রিটন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও মাঠ ছাড়েননি এই নেতা, যা তাঁকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।

​মাহফুজুর রহমান রিটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্রদল থেকে। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া ও যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার ধারাবাহিকতায় তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পান। জাতীয় পর্যায়েও তাঁর পরিচিতি বাড়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।

​ছাত্ররাজনীতি শেষে যুবরাজনীতিতেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন রিটন। রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। প্রতিটি পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। পরবর্তীতে তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখছেন।

​সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকায় তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে সফল হতে পারেন। সমর্থকদের মতে, নগরীর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে তাঁর নেতৃত্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

​প্রশাসক হিসেবে নিজের নাম আলোচনায় থাকা প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “ব্যক্তিগত পদ-পদবি কখনোই আমার লক্ষ্য ছিল না। আমি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করেছি। তবে দল এবং জনগণ যদি আমাকে কোনো দায়িত্বের যোগ্য মনে করে, তবে আমি অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করব।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “রাজশাহী আমার প্রাণের শহর। নাগরিক ভোগান্তি কমানো, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে গতি আনাই হবে আমার অগ্রাধিকার। মাঠের রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, বরং বড় দায়িত্বের বিষয়। আমি সবসময়ই দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা প্রায় দুই দশক দমন-পীড়ন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে সক্রিয় থাকা রিটনের নেতৃত্বের পরীক্ষা হতে পারে এই সম্ভাব্য প্রশাসনিক দায়িত্ব। আগামীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা ঠিক কী হবে, তা সময় বলে দেবে; তবে রাজশাহীর নগর রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব যে দিন দিন বাড়ছে, তা এখন স্পষ্ট।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন