মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

এলাকাজুড়ে কিশোর অপরাধচক্রের তৎপরতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহ মজেদ বাবু। তিনি বলেন, কিশোরদের বেপরোয়ামি ও নারীর নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আইন সবার জন্য সমান, অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতকারী ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, দলবদ্ধভাবে ঝগড়া-বিবাদ এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কোনো কিশোর অপরাধচক্র বা অসামাজিক গোষ্ঠী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কিংবা মেয়েদের উত্যক্ত করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত দণ্ডবিধি ও নারী-শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মেয়ে যেন নিশ্চিন্তে শিক্ষালয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব। অভিভাবকদের সন্তানদের গতিবিধির প্রতি সতর্ক নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোর ও কিশোরীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবারই প্রথম পাঠশালা। পরিবারের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চা জোরদার করতে হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে একযোগে দায়িত্বশীল হতে হবে। কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পক্ষপাত বা প্রভাব বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ নিয়োগপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া বলেন, “একটি নিরাপদ, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে সত্য, ন্যায় ও বিবেকের আলোকে। অপরাধ দমনে আবেগ বা গুজব নয়—প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। দোষী ব্যক্তি যেই হোক, তার পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিচার্য নয়; বরং আইন অনুযায়ী ন্যায়সংগত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণই কিশোর গ্যাং নির্মূলের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তিনি আরও বলেন, শাস্তির পাশাপাশি কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ একসঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অপরাধের সংস্কৃতি কমে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠবে সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে ন্যায়বিচার হবে শক্ত ভিত, আর রাজনীতি হবে সত্য ও কল্যাণকামী—মিথ্যা অপবাদ ও বিদ্বেষের নয়।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে যেকোনো অপরাধের তথ্য-প্রমাণ প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, নিরবতা অপরাধকে শক্তিশালী করে, আর সাহসী প্রতিবাদ অপরাধ দমনে সহায়তা করে।

পাশাপাশি কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে কিশোররা সহজে বিপথে যায় না।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন