বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ ঘিরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তেজনা আইসিটি, অটোমোবাইল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি
  • কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

    কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    এলাকাজুড়ে কিশোর অপরাধচক্রের তৎপরতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহ মজেদ বাবু। তিনি বলেন, কিশোরদের বেপরোয়ামি ও নারীর নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আইন সবার জন্য সমান, অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতকারী ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, দলবদ্ধভাবে ঝগড়া-বিবাদ এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কোনো কিশোর অপরাধচক্র বা অসামাজিক গোষ্ঠী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কিংবা মেয়েদের উত্যক্ত করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত দণ্ডবিধি ও নারী-শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মেয়ে যেন নিশ্চিন্তে শিক্ষালয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব। অভিভাবকদের সন্তানদের গতিবিধির প্রতি সতর্ক নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোর ও কিশোরীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পরিবারই প্রথম পাঠশালা। পরিবারের নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চা জোরদার করতে হবে।

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সবাইকে একযোগে দায়িত্বশীল হতে হবে। কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পক্ষপাত বা প্রভাব বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না।

    এ বিষয়ে এনটিআরসিএ নিয়োগপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া বলেন, “একটি নিরাপদ, মানবিক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে সত্য, ন্যায় ও বিবেকের আলোকে। অপরাধ দমনে আবেগ বা গুজব নয়—প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। দোষী ব্যক্তি যেই হোক, তার পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিচার্য নয়; বরং আইন অনুযায়ী ন্যায়সংগত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণই কিশোর গ্যাং নির্মূলের সবচেয়ে কার্যকর পথ।

    তিনি আরও বলেন, শাস্তির পাশাপাশি কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ একসঙ্গে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অপরাধের সংস্কৃতি কমে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে উঠবে সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে ন্যায়বিচার হবে শক্ত ভিত, আর রাজনীতি হবে সত্য ও কল্যাণকামী—মিথ্যা অপবাদ ও বিদ্বেষের নয়।”

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে যেকোনো অপরাধের তথ্য-প্রমাণ প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, নিরবতা অপরাধকে শক্তিশালী করে, আর সাহসী প্রতিবাদ অপরাধ দমনে সহায়তা করে।

    পাশাপাশি কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে কিশোররা সহজে বিপথে যায় না।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন