বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • বিয়ে নির্ভর করে বয়সে নয়, মানসিক প্রস্তুতিতেই

    বিয়ে নির্ভর করে বয়সে নয়, মানসিক প্রস্তুতিতেই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বিয়ে শুধু একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এটি একটি বৈধ চুক্তি, যা দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য জীবন শুরু করার সুযোগ দেয়। ভালোবাসার সম্পর্ককে আইনি ও সামাজিক স্বীকৃতি দেয় এই বন্ধন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—কবে বিয়ে করা উচিত? কত বয়সে বিয়ে করলে তা ‘সঠিক সময়’ বলে ধরা যায়? সমাজে এ নিয়ে নানা মতপার্থক্য রয়েছে।

    একটি বিষয় স্পষ্ট—তাড়াহুড়া করে বিয়ে করা কখনও সঠিক নয়। শুধুমাত্র পরিবারের চাপ, সামাজিক মানদণ্ড বা ‘বয়স হয়ে যাচ্ছে’—এরকম চিন্তা থেকে বিয়ে করা উচিত নয়। বরং নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়া, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    এই প্রসঙ্গে ভারতের প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী লারা দত্তের উদাহরণ উল্লেখযোগ্য। তিনি নিজের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেননি। প্রাক্তন টেনিস তারকা মহেশ ভূপতিকে বিয়ে করার আগে দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তাভাবনা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
    “আমি অল্প বয়সে বিয়ে করিনি। আগে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছি, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হয়েছি। কোনো পুরুষের উপর নির্ভরশীল হতে চাইনি।”

    তার এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়—বিয়ে মানে আত্মনির্ভরতা হারানো নয়, বরং নিজের অবস্থান শক্ত করে নেওয়ার পর জীবনের সঙ্গী নির্বাচন করা।

    বিয়ের বয়স নিয়ে সমাজের ভুল ধারণা

    আমাদের সমাজে এখনও একটি প্রচলিত ধারণা আছে—নির্দিষ্ট বয়স পেরিয়ে গেলে বিয়ে সুখের হয় না। মনোবিদরা বলেন, এটি পুরোপুরি ভুল। অনেকেই আগে নিজের চাহিদা, সীমা ও প্রত্যাশা বুঝতে চান, তারপর জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেন।

    মানসিক প্রস্তুতির গুরুত্ব

    বিয়ের জন্য যে মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। এটি নির্ভর করে একজন মানুষের আত্মসচেতনতা ও জীবনের অভিজ্ঞতার উপর। কারো ক্ষেত্রে এটি ৩০ বছর বয়সে আসে, আবার কারো ক্ষেত্রে ৩৫–৪০ বা তারও পরে।

    তাড়াহুড়ার বিয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

    একাকিত্বের ভয় বা সমাজ-পরিবারের চাপ থেকে তাড়াহুড়া করে বিয়ে করলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিজের সীমা, চাহিদা ও আবেগ না বোঝা অবস্থায় সম্পর্ক টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়।

    নিজের সময় অনুযায়ী বিয়ে—বিচক্ষণতার পরিচায়ক

    মনোবিদরা মনে করেন, জীবনের শূন্যতা পূরণের জন্য বিয়ে করলে সম্পর্ক মজবুত হয় না। তবে যখন দু’জন মানুষ নিজেদের জীবন সম্পূর্ণভাবে বুঝে একে অপরের সঙ্গে এগোয়, তখনই সুস্থ ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    অতএব, নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও সময় অনুযায়ী বিয়ে নেওয়াই সচেতন, পরিণত এবং বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।


    সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন