বৃহৎ উত্থান দেখালো শেয়ারবাজার, লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজারে পতনের বৃত্ত থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। মূল সূচকগুলোর ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তে শেয়ার ও ইউনিটের মূল্যের তালিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের ইঙ্গিত।
দিনের শুরুতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে সূচক উত্থান শুরু হয়। লেনদেন চলার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যের বৃদ্ধি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। ডিএসইতে ২৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ৭২টির দাম কমেছে এবং ৫৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০% বা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানের মধ্যে ১৩৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৪২টির কমেছে এবং ৩২টির অপরিবর্তিত। মাঝারি মানের বা ১০% এর কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৬টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে, ১৫টির কমেছে এবং ৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৩টির দাম বেড়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৯১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। আগের কার্যদিবসে সূচক ৭৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল, ফলে দুই দিনের মধ্যে সূচক বেড়েছে ১৩২ পয়েন্ট। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১,০২৩ পয়েন্টে, এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৪৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ লেনদেনে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (১৯.৫৭ কোটি টাকা), প্রাইম ব্যাংক (১৮.৮৭ কোটি টাকা) এবং সিটি ব্যাংক (১৫.৩৮ কোটি টাকা)। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউমন, বেক্সিমকো ফার্মা, খান ব্রাদার্স, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং শাহজিবাজার পাওয়ার।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএসই-র সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। এখানে লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে, ৩৬টির কমেছে এবং ২৬টির অপরিবর্তিত। মোট লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
মোটের উপর, শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা, মূল্যসূচকের বৃদ্ধি এবং লেনদেনের তীব্রতা দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।