মর্যাদা ও নিরাপত্তা আপোষে আমরা বিশ্বকাপ চাই না: ড. আসিফ নজরুল

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপোষ করে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায় না।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “কষ্ট করে কোয়ালিফাই করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও, যদি তা জাতীয় মর্যাদা, ক্রিকেটার, দর্শক বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে— তাহলে বাংলাদেশ মাঠে নামবে না।”
ড. আসিফ নজরুলের এই মন্তব্যটি উদ্ভূত হয়েছে নিরাপত্তা এবং মর্যাদার প্রশ্নে সম্প্রতি তীব্র আলোচনা বাড়ায়। তিনি মনে করেন, ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর ক্ষেত্রে শিক্ষা, প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার জায়গা থেকে কোনো আপোষ গ্রহণযোগ্য নয়।
তার বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে
জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করা হবে,
খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে রাখা হবে,
এবং এমন কোনো পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় যেখানে বাংলাদেশ দলকে অবমাননার পরিস্থিতিতে খেলতে বাধ্য করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান প্রতিটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে দেশীয় ভক্ত ও ক্রীড়া প্রশাসনের কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে এসেছে।
ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে কারণ তিনি যুব ও ক্রীড়া খাতের ওপর সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং তাঁর মন্তব্য জাতীয় ক্রীড়া নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমরা ক্রীড়াপাগল, ক্রিকেটভক্ত জাতি। আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলতে চাই। কিন্তু সেটা হবে না জাতির অবমাননার বিনিময়ে কিংবা আমাদের ক্রিকেটার, দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রেখে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক চিঠি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনে হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য যে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেটি আইসিসি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। “আমার কাছে এটি শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন,” বলেন তিনি।
ভারতের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, তবে আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করবো না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী এবং বিকল্প আয়োজক দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। এ অবস্থানে সরকার অনড় রয়েছে। আমাদের যুক্তি যথেষ্ট শক্ত। আমরা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি, যাতে তারা নিরপেক্ষতা ও সহৃদয়তার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করে।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের মূল অবস্থান হলো আইসিসিকে যুক্তি দিয়ে বোঝানো। বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপোষ নয় এই স্ট্যান্ডে আমরা অটল। তবে আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলতে চাই।
পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ভারতে খেলার মতো পরিবেশ নেই, এই অবস্থান তুলে ধরে আইসিসিকে চিঠি দেওয়া হবে। তিনি জানান, আজ রাতেই অথবা বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে সেই চিঠি পাঠানো হবে।