বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • সঠিক চিকিৎসায় শিশুর খিঁচুনি প্রতিরোধ সম্ভব

    সঠিক চিকিৎসায় শিশুর খিঁচুনি প্রতিরোধ সম্ভব
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শ্রেয়ার (ছদ্মনাম) প্রথম যখন খিঁচুনি হয় তথন তার বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। হঠাৎ একদিন দুপুর বেলা খেলতে খেলতে তার খিঁচুনি শুরু হয়। প্রথমে তার মা কিছুই বুঝতে পারছিল না যে তার মেয়ে এমন আচরন কেন করছে! তারপর তাড়াহুড়ো করে বাসার কাছেই চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগ এলাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায় তার মা। সেখানে ডাক্তার দেখে বলেন শ্রেয়ার খিঁচুনি বা মৃগী রোগ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরও একদিন ক্লিনিকে ভর্তি রাখা হয় তাকে। এরপর আরো বেশ কয়েকবার খিঁচুনি হয় শ্রেয়ার। এখনো তার চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদুর রহমান বলেন, মৃগী রোগ বললেই খিঁচুনির দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। রাস্তাঘাটে এ রকম অনেক খিঁচুনি রোগীকে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে অজ্ঞতাবশত তাদের নাকে জুতা, মোজা চেপে ধরেন। কিন্তু এরা যে জটিল মস্তিস্কের সমস্যায় ভুগছে, তা হয়তো অনেকেই জানি না। তাই বলে কি খিঁচুনি মানেই মৃগী রোগ? না, মোটেও তা নয়।

    তিনি বলেন, নানাবিধ কারণে শিশুদের খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। খিঁচুনি সাধারণত মস্তিস্কের জটিল কোনো অসুখের লক্ষণ। জন্মের পর থেকে যেকোনো সময় খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। জন্মের পরে প্রথম দিনে রক্তে সুগার কমে গিয়ে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। মস্তিস্কে অক্সিজেনের অভাব হলে দ্বিতীয় দিনে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। প্রথম সপ্তাহে খিঁচুনি হয়ে থাকে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ বা ইনফেকশনের জন্য।

    এ ছাড়া শিশুর বয়স এক মাসের মধ্যে মস্তিস্কের বৈকল্য বা বিপাকীয় জটিলতার কারণে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। নবজাতকের খিঁচুনি একটু অন্যরকম হয়ে থাকে। যেমন হঠাৎ কিছু সময়ের জন্য স্বাভাবিক নড়াচড়া বন্ধ থাকে অথবা শরীরের কোনো অংশে ঝাঁকুনি হয়ে থাকে অথবা শ্বাস বন্ধ রাখে।

    শিশুদের এক ধরনের ঝাঁকুনিকে খিঁচুনি বলে মনে হতে পারে। খেয়াল করলে এটি সহজে আলাদা করা যায়। সাধারণ খিঁচুনি হাত দিয়ে ধরলে থেমে যায়, চিকিৎসার দরকার হয় না।

    শিশু নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী আশরাফ বলেন শিশুর বয়স এক বছরের মধ্যে নানা কারণে খিঁচুনি হতে পারে। এর মধ্যে ইনফেন্টাইল স্পাজমের বিশেষ চিকিৎসা দরকার হয়। ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সের শিশুদের সাধারণ জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি দেখা দেয়, তাকে জ্বরজনিত খিঁচুনি বলে। সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে জ্বরজনিত খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বয়স বাড়লে এ খিঁচুনি ভালো হয়ে যায়।
    জ্বরজনিত খিঁচুনি সাধারণত মস্তিস্কের বাইরের কোনো ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে মস্তিস্কের ইনফেকশন যেমন মেনিনজাইটিস বা এনকেফালাইটিসের সম্পৃক্ততা নেই, সেটা বোঝা জরুরি। সে ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রোগীর বিশেষ কিছু পরীক্ষা করে নিতে হয়।

    নবজাতকের খিঁচুনি সাময়িক চিকিৎসায় ভালো হয়। অল্প সংখ্যক বাচ্চার নিয়মিত ওষুধের দরকার হয়। এপিলেপ্সি বা মৃগী রোগজনিত খিঁচুনির জন্য দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করতে হয়। পারিপার্শ্বিক কারণ ছাড়াই বারবার খিঁচুনি হলে তাকে মৃগী রোগ বা এপিলেপ্সি বলে। ৭০-৮০ শতাংশ মৃগী রোগীর খিঁচুনি পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হয়। খিঁচুনির চিকিৎসা বয়স ও লক্ষণ অনুযায়ী করতে হয়। লক্ষণ অনুযায়ী মৃগী রোগ সাধারণত দুই ধরনের। যেমন- খিঁচুনি শরীরের যেকোনো এক অংশে হয় ফোকাল সিজার আর সারা শরীরে হয় জেনারেলাইজড সিজার।

    লক্ষণ ও বয়স অনুযায়ী সঠিক ওষুধ নির্বাচন করে সর্বনিম্ন মাত্রায় শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়। সাধারণ ওষুধের দ্বারা নিরাময় না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন কিটোজেনিক ডায়েট, এপিলেপ্সি সার্জারি। ওষুধ চলা অবস্থায় ৩-৬ মাস পর রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। যেকোনো অবস্থায় পাঁচ মিনিটের বেশি খিঁচুনি স্থায়ী হলে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিতে হবে। শুধু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণই এপিলেপ্সির একমাত্র চিকিৎসা নয়। এপিলেপ্সি রোগীর খিঁচুনির পাশাপাশি আনুষঙ্গিক বিষয় যেমন- হাঁটাচলা, কথা বলা, বুদ্ধিবৃত্তি ইত্যাদির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। খিঁচুনি নিয়ন্ত্রিত থাকলে এপিলেপ্সি রোগী পড়াশোনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সব কাজ স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যেতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন