নুসরাত হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে দুইজনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সময় আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
২০ আগস্ট শুনানি শেষ
এর আগে গত ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করেছিল।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও অন্যান্য বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি গত ১০ জুন এই হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন। ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করে।
যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের ওপর চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল তাকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
নিম্ন আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে মামলাটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।
অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও নিজেদের সাজা বাতিল বা কমানোর আবেদন জানিয়ে পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।