শুধু দুধ বা হাড়ের স্যুপ নয়, হাড় মজবুত রাখতে যা বলছেন চিকিৎসক

অনেকের ধারণা, বেশি বেশি দুধ পান করলেই হাড় ক্ষয় রোধ করা যায়। আবার কেউ মনে করেন, হাড়ের নিহারি বা স্যুপ খেলেই হাড় শক্ত হবে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, হাড়ের সুস্থতার জন্য শুধু ক্যালসিয়ামই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, ভিটামিন ডি, প্রোটিন ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমান জানান, হাড়কে শক্ত ও সুস্থ রাখতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন ডি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, শরীরের হরমোনের ভারসাম্য এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শুধু ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই হাড় মজবুত হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকেই হাড়ের স্যুপকে হাড় শক্ত করার উপকারী খাবার মনে করেন। তবে সাধারণভাবে রান্না করা হাড় থেকে স্যুপে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় না। তাই হাড়ের স্যুপ খেলে হাড় শক্ত হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
হাড় ক্ষয়ের কারণ
চিকিৎসকদের ভাষায়, অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া
- বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের হাড় দুর্বল হওয়া
- দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
- শরীরচর্চার অভাব
- ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন
- অপুষ্টি বা কম ওজন
- কিছু হরমোনজনিত সমস্যা
হাড় ক্ষয়ের লক্ষণ
অস্টিওপোরোসিসকে ‘নীরব রোগ’ বলা হয়, কারণ শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে পরে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- কোমর বা পিঠে দীর্ঘদিন ব্যথা
- সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়া
- উচ্চতা কমে যাওয়া
- পিঠ বাঁকা হয়ে যাওয়া
- হাড় দুর্বল হয়ে পড়া
হাড় ভালো রাখতে যেসব খাবার জরুরি
ডা. আব্দুর রহমান জানান, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে—
- দুধ, দই ও পনির
- কাঁটাসহ খাওয়া যায় এমন ছোট মাছ
- ডিম
- সবুজ শাকসবজি
- তিল ও বাদাম
- ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর জন্য প্রতিদিন সকাল বা বিকেলের নরম রোদে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট থাকা উপকারী। তৈলাক্ত মাছ ও ডিমের কুসুম থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
হাড় মজবুত রাখতে করণীয়
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী—
- নিয়মিত হাঁটা ও ওজন বহনকারী ব্যায়াম করতে হবে
- ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে
- অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে
- পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে
কারা বেশি ঝুঁকিতে
৬৫ বছরের বেশি বয়সী নারী, ৭০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং সামান্য আঘাতে যাদের হাড় ভেঙেছে, তারা হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা (বিএমডি) করানোর বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
চিকিৎসক আরও জানান, নিজের ইচ্ছায় ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ সবার শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা এক নয়। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথরসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হাড়ের ক্ষয় অনেক সময় নীরবে শুরু হয় এবং দেরিতে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তাই আগে থেকেই সচেতন হওয়া, সুষম খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হাড় ভালো রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।