রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তফসিল নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ ইসির ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ জানাল ইএসডিও ‘স্বৈরাচার হেরেছে’ স্লোগানে মুখর দিল্লি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উচ্ছ্বাস রোববার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে, আগস্টেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, একদিনে প্রাণ গেল একজনের ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভিসা সমস্যা সমাধানের আহ্বান শাপলা চত্বর মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ২৭ জুলাই হাম-উপসর্গে বাড়ছে মৃত্যু, সর্বশেষ ৬ শিশুর সবাই ঢাকা বিভাগের
  • টাক মাথা ও লাল মুখের বিস্ময়কর আমাজনের বানর

    টাক মাথা ও লাল মুখের বিস্ময়কর আমাজনের বানর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আবাস আমাজন রেইনফরেস্টে এমন অসংখ্য প্রাণী রয়েছে, যাদের বৈশিষ্ট্য প্রকৃতিপ্রেমীদের বিস্মিত করে। তেমনই একটি বিরল প্রাইমেট হলো বাল্ড উকারি (Bald Uakari)। টাক মাথা, উজ্জ্বল লাল মুখ এবং ছোট লেজের কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী চেহারার বানরগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

    কেন এত লাল এদের মুখ?

    বাল্ড উকারির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর উজ্জ্বল লাল মুখ। এদের মুখে প্রায় কোনো লোম থাকে না এবং ত্বকের নিচে ঘন রক্তনালির উপস্থিতির কারণে মুখে এমন গাঢ় লাল আভা দেখা যায়।

    বিজ্ঞানীদের মতে, এই লাল রং শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সুস্থ ও সবল বাল্ড উকারির মুখ সাধারণত বেশি উজ্জ্বল লাল হয়, আর অসুস্থ বা দুর্বল প্রাণীর মুখ তুলনামূলকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে যায়। তাই সঙ্গী নির্বাচনেও এই বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    অদ্ভুত গড়ন

    বাল্ড উকারির শরীর ঘন বাদামি বা লালচে-বাদামি লোমে আবৃত হলেও মাথার ওপরের অংশ প্রায় লোমহীন। এদের লেজও অন্যান্য গাছে বসবাসকারী বানরের তুলনায় অনেক ছোট।

    পূর্ণবয়স্ক একটি বাল্ড উকারির ওজন সাধারণত ৩ থেকে ৪ কেজি এবং দেহের দৈর্ঘ্য ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটারের মধ্যে হয়। শক্তিশালী হাত-পা তাদের গাছের ডাল থেকে ডালে দ্রুত চলাচলে সাহায্য করে।

    কোথায় দেখা যায়?

    বাল্ড উকারির আবাস দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকা, বিশেষ করে ব্রাজিল ও পেরুর প্লাবিত বনাঞ্চল, জলাভূমি এবং নদীঘেরা জঙ্গলে।

    বছরের দীর্ঘ সময় এসব বনাঞ্চল পানিতে তলিয়ে থাকলেও তারা সহজেই সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে পারে। জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তারা গাছের উঁচু ডালে কাটায় এবং খুব কমই মাটিতে নামে।

    কী খায়?

    বাল্ড উকারি মূলত ফলভোজী। তাদের খাদ্যতালিকায় থাকে বিভিন্ন ধরনের ফল, শক্ত খোসাযুক্ত বীজ, কচি পাতা, ফুল এবং উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ। শক্ত বীজ ভাঙার জন্য তাদের দাঁত বেশ শক্তিশালী। মৌসুমি খাদ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের উল্লেখযোগ্য।

    দলবদ্ধ জীবন

    এই বানরগুলো অত্যন্ত সামাজিক স্বভাবের। সাধারণত ৩০ থেকে ১০০ সদস্যের বড় দলে বসবাস করে। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করলে শিকারির হাত থেকে নিরাপদ থাকা এবং খাদ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়। বিভিন্ন ধরনের ডাক ও শরীরী অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে।

    সংরক্ষণ কেন জরুরি?

    বর্তমানে বন উজাড়, কৃষিজমি সম্প্রসারণ, অবৈধ শিকার এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বাল্ড উকারির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সংরক্ষণবিদদের মতে, আমাজনের বন রক্ষা না করা গেলে এই বিরল প্রজাতির ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়বে।

    প্রকৃতির বিস্ময়কর এই প্রাণী শুধু তার অদ্ভুত চেহারার জন্য নয়, বরং বিবর্তন, পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন এবং জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেও বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


    সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ