ডেঙ্গু সেরে উঠলেও বিপদ শেষ নয়, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ডেঙ্গু জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেকের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রোগমুক্ত হলেও শরীর পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। তাই এই সময় সঠিক যত্ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গুর পর যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে অনেক রোগীই দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদ, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, মাথা ঘোরা এবং ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। কারও ক্ষেত্রে অনিদ্রা, আবার কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
তীব্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ফুসফুস বা পেটে পানি জমা, পিত্তথলির প্রদাহ কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব কারণে পরবর্তীতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, পক্ষাঘাত, নিউমোনিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
দ্রুত সুস্থ হতে যা করবেন
ডেঙ্গুর পর শরীরের শক্তি ফিরে পেতে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, স্যুপ বা অন্যান্য তরল খাবার পান করুন। খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধসহ উচ্চমানের প্রোটিন রাখুন। পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল এবং ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত, ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা জিংকের মতো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
বিশ্রাম ও মানসিক যত্নও জরুরি
ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পরপরই ভারী কাজ বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করাই ভালো। অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং প্রয়োজন হলে রিলাক্সেশন থেরাপি গ্রহণ করাও উপকারী।
যদি গিঁট বা পেশির ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি নেওয়া যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ডেঙ্গু সেরে ওঠার পরও যদি দুর্বলতা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, খিঁচুনি, পক্ষাঘাত, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো জটিল উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই মশার বিস্তার রোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।