এক সপ্তাহে শেয়ারবাজারে বাজার মূলধন কমলো ৩ হাজার কোটি টাকা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তায় দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কমায় বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে দর পতনের এই শঙ্কার মধ্যেই লেনদেনে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে সূচকের স্থবিরতার বিপরীতে লেনদেনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৮১৩ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩টির, কমেছে ১৪২টির এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মার মতো বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে বিক্রয় চাপের কারণে সূচক ও মূলধনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের আধিপত্য ছিল, যা মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ২ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। রিটার্নের দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সিরামিক (৪.৮%) ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত (৩.৯%)। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে চরম পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত প্রান্তিকের করপোরেট আয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় থাকায় বড় বিনিয়োগকারীরা বড় কোনো বিনিয়োগে না গিয়ে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন। ফলে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা সত্ত্বেও বাজার শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারেনি।