বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার বিআরটিসি চালু করছে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, সব কর্মী নারী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদের আগে শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা কড়াইল বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ছুটি বাড়াল সরকার পাকিস্তান সিরিজেও অনিশ্চিত সাকিব; দলে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ খিলগাঁওয়ে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ রুপার অলঙ্কার লুট আকাশপথ বন্ধের ৬ দিন: ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০টি ফ্লাইট রমজান ও ঈদের চাপে ম্লান একুশে বইমেলা; জনসমাগম নিয়ে চিন্তায় প্রকাশকরা বাফুফে কর্মকর্তার মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া বাটলারের
  • সন্তানকে কেবল ধন্যবাদ বলা নয়, প্রকৃত কৃতজ্ঞ হতে শেখাবেন যেভাবে

     সন্তানকে কেবল ধন্যবাদ বলা নয়, প্রকৃত কৃতজ্ঞ হতে শেখাবেন যেভাবে
    ছবি- সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতার ভিড়ে আমরা শিশুদের অনেক কিছুই শেখাই, কিন্তু ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’ বা ‘Gratitude’ অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। মনোবিদদের মতে, কৃতজ্ঞ শিশুরাই ভবিষ্যতে মানসিকভাবে বেশি শক্তিশালী এবং সুখী হয়। কিন্তু শিশুকে কেবল তোতা পাখির মতো ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলানোই কৃতজ্ঞতা নয়। এর জন্য প্রয়োজন গভীর বোধ।

    ১. আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করুন
    শিশুরা যা শোনে তার চেয়ে যা দেখে তা বেশি শেখে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি, গৃহপরিচারক বা রিকশাচালকের প্রতি আপনি কতটা কৃতজ্ঞ, তা শিশু যেন দেখতে পায়। আপনি যখন ছোট ছোট কাজে অন্যকে ধন্যবাদ দেবেন, শিশুটিও তা অনুকরণ করবে।

    ২. ‘কেন’ ধন্যবাদ দিচ্ছে তা বোঝান
    উপহার পেলেই ‘থ্যাঙ্ক ইউ বলো’—এভাবে চাপ না দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলুন। যেমন: “দেখো, দাদু তোমার জন্য কষ্ট করে এই খেলনাটি এনেছেন কারণ তিনি তোমাকে ভালোবাসেন।” এতে শিশু উপহারের চেয়ে মানুষের পরিশ্রম ও আবেগের মূল্য দিতে শিখবে।

    ৩. প্রতিদিনের ‘তিনটি ভালো লাগা’ নিয়ে আলোচনা
    রাতে ঘুমানোর আগে শিশুর সাথে কথা বলুন। সারাদিনে ঘটে যাওয়া অন্তত তিনটি ভালো জিনিসের কথা তাকে বলতে উৎসাহিত করুন। এটি তাকে জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলোর প্রতি মনোযোগী ও কৃতজ্ঞ করে তুলবে।

    ৪. ত্যাগের গুরুত্ব বোঝানো
    শিশু যা চায় তা মুহূর্তেই হাজির করবেন না। কোনো কিছু পাওয়ার পেছনে যে বাবা-মায়ের পরিশ্রম বা ত্যাগ থাকে, তা তাদের বয়স অনুযায়ী বুঝিয়ে বলুন। যখন সে বুঝবে কোনো কিছু সহজলভ্য নয়, তখন সে সেটির প্রতি অধিক যত্নশীল ও কৃতজ্ঞ হবে।

    ৫. সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ
    শিশুকে নিয়ে মাঝেমধ্যে অনাথ আশ্রম বা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। নিজের খেলনা বা পুরনো কাপড় দান করতে উৎসাহিত করুন। অন্যের অভাব দেখলে সে নিজের প্রাপ্তিগুলোর গুরুত্ব বুঝতে শিখবে।

    ৬. কৃতজ্ঞতা ডায়েরি বা ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ কার্ড
    কাউকে ধন্যবাদ জানাতে ছোট হাতে একটি কার্ড বা ছবি আঁকতে উৎসাহিত করুন। এটি তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা তৈরি করবে।


    কৃতজ্ঞতাবোধ কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি দৃষ্টিভঙ্গি। শৈশব থেকেই এই গুণটি লালন করলে আপনার সন্তান বড় হয়ে একজন মানবিক ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। 


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন