গেম আসক্তি ও সাইবার ঝুঁকি: কীভাবে নজর রাখবেন

অনলাইন গেমের নেশা দিন দিন বাড়ছে ছোটদের মধ্যে। দিনভর মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়েই মেতে থাকে শিশুরা, যা শুধু মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না, একই সঙ্গে সাইবার অপরাধীদের কাছে সহজ লক্ষ্য করে তোলে।
উদাহরণস্বরূপ, ভারতের উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদ–এ তিন নাবালিকা অনলাইন গেম আসক্তির কারণে প্রাণ হারিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও সাইবার অপরাধও বাড়ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে, শিশুরা খুব সহজেই ফাঁদে পড়ে।
অনলাইনে এখন নানা রকম প্রতারণামূলক কাজকর্ম হচ্ছে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির সাইবার অপরাধীরা। ডিজিটাল গেম সাইবার প্রতারণার অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই সন্তান যদি দিনভর অনলাইনে গেম খেলে, তা হলে কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে বাবা-মাকে।
গেমিংয়ের উপর নজর রাখার উপায়
সন্তান অনলাইনে কী করছে, তা সরাসরি জানতে না চেয়ে বরং কৌশলে জেনে নিন। কী কী খেয়াল করবেন?
পেরেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপ: গুগ্ল ফ্যামিলি লিঙ্কের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি অনলাইন গেম খেলার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন। কোন ধরনের গেম ফোনে ডাউনলোড হবে, খেলার সময় কত ক্ষণ, তা আপনার হাতেই থাকবে।
গেমের রেটিং চেক করুন: গেমটি ডাউনলোড করার আগে তার রেটিং দেখুন। এতে বোঝা যায়, গেমটি কোন বয়সের জন্য উপযুক্ত।
অ্যাপে নজরদারি: খুদে কোন অ্যাপ ইনস্টল করে গেম খেলছে, তা যাচাই করে নিন। একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকেই গেম ডাউনলোড করতে হবে। এখন নানা ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সেখানে জমকালো বিজ্ঞাপন দিয়ে গেম খেলার জন্য আকর্ষণ করা হচ্ছে কমবয়সিদের।
ওপেন স্পেস গেমিং: সন্তানকে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে সকলের সামনে খেলার অভ্যাস করান। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, তা নজরে থাকবে।
অনলাইন গেমের বন্ধুদের চিনুন: অনেক গেমে 'লাইভ চ্যাট' অপশন থাকে। সন্তান অপরিচিত কারও সঙ্গে চ্যাট করছে কি না, বা ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছে কি না, তা নজরে রাখুন।
অভিভাবকদের জন্য সতর্কতা
১) দিনে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি গেম খেলতে দেবেন না। শুরু থেকেই এই নিয়ম জারি করুন।
২) সন্তানকে বোঝান যে, অনলাইনে অপরিচিত কেউ তাকে ছবি পাঠাতে বললে বা আপত্তিকর কথা বললে, যেন যে আপনাদের জানায়।
৩) অনলাইন গেম চলাকালীন অনেক সময়েই টাকাপয়সার লেনদেন করার নোটিফিকেশন আসে। খেয়াল রাখবেন, তেমন কিছু আসছে কি না। যদি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হয় বা কোনও রকম কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলা হয়, তা হলে সতর্ক হয়ে যান।
৪) গেমের মারফত কেউ সন্তানের নাম, ঠিকানা বা স্কুলের নাম জানতে চাইছে কি না, খেয়াল রাখুন। ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক হতে হবে।
৫) যে মোবাইলে খুদে গেম খেলছে, সেখানে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে রাখুন। ফোনের সফ্টঅয়্যার সময়ান্তরে আপডেট করুন। কোনও রকম অজানা লিঙ্ক আসছে কি না, তা নজরে রাখুন।