আলিঙ্গন: মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের শক্তিশালী “ওষুধ”

আলিঙ্গন বা হাগ শুধুই আবেগের প্রকাশ নয়; এটি স্ট্রেস কমানো, হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার জন্য কার্যকর। নিয়মিত আলিঙ্গন সুখের হরমোন—সেরোটোনিন ও অক্সিটোসিন—বৃদ্ধি করে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
কাউকে অন্তত ২০ সেকেন্ড জড়িয়ে ধরলে শরীর ও মনে জাদুকরী কিছু পরিবর্তন ঘটে। কেন একে 'শক্তিশালী ওষুধ' বলা হয়, তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ‘লাভ হরমোন’ বা অক্সিটোসিনের নিঃসরণ
আলিঙ্গন করলে মস্তিষ্ক থেকে অক্সিটসিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি আমাদের মনে আনন্দ দেয়, একাকীত্ব দূর করে এবং অন্যের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়। একে 'বন্ডিং হরমোন'ও বলা হয়।
২. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমায়
যখন আমরা কাউকে জড়িয়ে ধরি, তখন শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এটি নার্ভাস সিস্টেমকে শান্ত করে এবং নিমিষেই মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।
৩. হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
আলিঙ্গন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। অক্সিটোসিনের প্রভাবে রক্তনালীগুলো শিথিল হয়, যা হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
আলিঙ্গন করলে শরীরের থাইমাস গ্ল্যান্ডের ওপর মৃদু চাপ পড়ে, যা শ্বেত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তিশালী করে তোলে।
৫. ভয় ও উদ্বেগ দূর করে
ভয় বা দুশ্চিন্তার সময়ে প্রিয়জনের একটি উষ্ণ আলিঙ্গন আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এটি এক ধরণের ‘সেফটি সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করে, যা মস্তিষ্ককে জানায় যে আপনি নিরাপদ।
৬. ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে
আলিঙ্গনের ফলে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিক পেইনকিলার হিসেবে কাজ করে। এটি শারীরিক ও মানসিক—উভয় ধরণের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
একটি মজার তথ্য: বিখ্যাত ফ্যামিলি থেরাপিস্ট ভার্জিনিয়া সাটির মতে:
- টিকে থাকার জন্য দিনে আমাদের ৪টি আলিঙ্গন প্রয়োজন।
- মানসিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৮টি আলিঙ্গন প্রয়োজন।
- এবং বৃদ্ধির জন্য দিনে অন্তত ১২টি আলিঙ্গন প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্য, প্রিয়জন বা বন্ধুদের একটি আন্তরিক আলিঙ্গন শুধু ভালোবাসা বাড়ায় না, এটি আপনাকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করে।
দৈএনকে/জে, আ